বাইসনের হমলায় মৃত্যু। ফাইল চিত্র।
জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে রবিবার বাইসনের হামলায় এক মহিলার মৃত্যু হল বক্সার জঙ্গলে। গুরুতর জখম হয়েছেন মহিলার স্বামীও। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, দমনপুর পঞ্চিশ রেঞ্জের গরম বিটে এ দিন ঘটনাটি ঘটেছে।
বন দফতর সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের উত্তর বাইরিগুড়ি এলাকার বাসিন্দা এক দম্পতি মিশেন রাভা (৬০) ও তাঁর স্বামী মোহন রাভা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে যান। জঙ্গলে ঢুকতেই তাঁদের বাইসন তাড়া করে। দুজনেই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মিশেনের মাথা ও বুকে আঘাত করে বাইসনটি। মিশেনের পরে বাইসনটি আক্রমণ করে মোহনকেও। বাইসনের হামলায় জখম অবস্থায় দুজনের চিৎকারে স্থানীয়েরা দ্রুত ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মিশেনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি মোহনের চিকিৎসা চলছে বলে বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে।
জঙ্গলের ভিতরে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মিশেনের মৃত্যু হওয়ায় পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী ভাবে বনকর্মীদের নজর এড়িয়ে জঙ্গলে ঢুকছেন স্থানীয় বাসিন্দারা? বন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সব সময়ই নজরদারি চলে। চলে সচেতনতামূলক প্রচারও। কিন্তুকোনও কোনও মহলের অভিযোগ, বন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে নজরদারিতেও ঘাটতি থাকে। যার জেরে এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল অবশ্য বলেন, “এ ধরনেরদুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এড়াতে সব সময়ই বন দফতরের নজরদারি চলে। সচেতনামূলক প্রচারও ব্যাপক ভাবে করা হয়।” এ দিনের ঘটনার পরে প্রচারে আরও জোর দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বক্সার ক্ষেত্র অধিকর্তার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে