নিজস্ব চিত্র
সোনালি গুহ, সরলা মুর্মু, দীপেন্দু বিশ্বাস, বাচ্চু হাঁসদা, অমল আচার্যের পর এ বার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন করলেন মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য ডলিরানি মণ্ডল। মালদহের মানিকচক ব্লকের ২৩ নম্বর জেলা পরিষদের সদস্য তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মোহভঙ্গ’ হয়েছে। শনিবার, মালদহ জেলা পরিষদের সভানেত্রী মৌসম বেনজির নুরের কাছে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। চিঠিতে ডলিরানি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘ক্ষমাপ্রার্থী’।
যদি সত্যিই তিনি তৃণমূলে ফিরে যান, তা হলে মালদহ জেলা পরিষদে বিজেপি-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংশয় তৈরি হবে। সে কারণেই এই ঘটনা নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে মালদহ জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। প্রথমে মালদহ জেলা পরিষদের ৩৮টি আসন। একটি আসনে সদস্যের মৃত্যুর কারণে ৩৭টি আসনের মধ্যে ২৯টি আসন তৃণমূলের, ছ’টি আসন বিজেপি-র দখলে ও দু’টি আসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে সমীকরণ বদলে যায়। মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড়চন্দ্র মণ্ডলের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে ১৫ জন সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর বিজেপি-র দুই সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ফলে সমীকরণ হয় বিজেপি ১৯ ও তৃণমূল ১৮। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করতে থাকে, মালদহ জেলা পরিষদ দখল করেছে তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই বদলাতে থাকে সমীকরণ। জেলা পরিষদের ক্ষমতাদখলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা জন্য প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যা ১৯। কিন্তু বিজেপি-তে চলে যাওয়া সদস্যরা পুনরায় তৃণমূল ফেরার আবেদন শুরু করেন। এর মধ্যে সরলা মূর্মূ ইতিপূর্বে আবেদন করেছেন। শনিবার ডলিরানি মণ্ডলও করলেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, বিজেপি-তে চলে যাওয়া ১৫ সদস্যের মধ্যে ৮ সদস্য তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আলোচনা করেছেন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে। ফলে জেলা পরিষদের অনাস্থা এলে ক্ষমতা দখল করবে তৃণমূল।
যদিও বিজেপি-র জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি কাউকে আহ্বান করেননি। স্বেচ্ছায় বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। ফলে তাঁদের আটকানোর কোনও চেষ্টা তিনি করবেন না। অনাস্থা ভোটে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবে। অন্য দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হেমন্ত শর্মা জানান, বিজেপি-র কাছে ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছনোর সংখ্যা নেই। তাই মালদহ জেলা পরিষদ তৃণমূলেরই হবে। আর দলবদলুদের সিদ্ধান্ত রাজ্য নেতৃত্বের হাতে রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তই মেনেই মালদহ তৃণমূল চলবে।