ফের এটিএম তুলে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা

ফের আস্ত এটিএম মেশিন তুলে নিয়ে পালিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার খাগরাবাড়ি এলাকায়। পুলিশ সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ওই এটিএমে ২০ লক্ষ টাকার বেশি ছিল। সোমবার সন্ধ্যাতেই ওই মেশিনে টাকা ঢোকানো হয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহরের কামেশ্বরী রোড থেকে একটি এটিএম মেশিন নিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৬ ০৩:৩৫
Share:

এখানেই ছিল এটিএম। ছবি তুলছেন পুলিশকর্মী। নিজস্ব চিত্র।

ফের আস্ত এটিএম মেশিন তুলে নিয়ে পালিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার খাগরাবাড়ি এলাকায়। পুলিশ সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ওই এটিএমে ২০ লক্ষ টাকার বেশি ছিল। সোমবার সন্ধ্যাতেই ওই মেশিনে টাকা ঢোকানো হয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহরের কামেশ্বরী রোড থেকে একটি এটিএম মেশিন নিয়ে চম্পট দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনায় অসমের কামরূপ জেলার বাসিন্দা ৫ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সপ্তাহ দুয়েক আগে ওই অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পায়। কোচবিহারের পুলিশ সুপার সুনীল যাদব বলেন, “ওই পাঁচ জন এ বারের ঘটনার সঙ্গেও জড়িত রয়েছেন বলে আমাদের সন্দেহ। একই কায়দায় তা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা কিছু ছবি পেয়েছি। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Advertisement

শুধু কোচবিহার নয়, গত ছ’মাসে এ নিয়ে উত্তরবঙ্গের তিন জেলা থেকে পাঁচটি মেশিন লুঠের ঘটনা ঘটল। কামেশ্বরী রোডের পরে শিলিগুড়ি ইস্কন মন্দির লাগোয়া এক্তিয়াশাল থেকে দুটি এটিএম মেশিন তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। আলিপুরদুয়ারের সলসলাবাড়ি থেকেও একটি এটিএম মেশিন তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পরে সেটি একটি নদীতে পাওয়া যায়। এটিএমের ভিতরে থাকা কয়েক লক্ষ টাকা অবশ্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন উঠেছে, পর পর এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ বা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করছেন না কেন? পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কামেশ্বরী রোড থেকে খাগরাবাড়ির দূরত্ব বড়জোর পাঁচশো মিটার। শিলিগুড়ি যাওয়ার প্রধান সড়কের ধারেই প্রায় দশ বছর ধরে ওই এটিএম কাউন্টার রয়েছে। ওই কাউন্টারের সঙ্গে লাগোয়া একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএমও রয়েছে। উল্টোদিকে আরেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ও এটিএম রয়েছে। ওই এলাকাটি বেশ জনবহুল। ওই তিনটি কাউন্টারের একটিতেও অবশ্য নিরাপত্তারক্ষী নেই। নির্বাচনের জন্য খাগরাবাড়ি মোড়ে রাতের দিকে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ ছাড়াও দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার্স এটিএমের আশপাশেই রাতে পাহারার কাজ করছিলেন। রাত আড়াইটে নাগাদ ওই দু’জন সেখান থেকে কিছুটা এগিয়ে টহল দিতে গিয়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে কেউ ছিলেন না। সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা মেশিন নিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

Advertisement

ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, কোচবিহারে ওই ব্যাঙ্কের ৪২টি এটিএম দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। সেই সংস্থার তরফেই এটিএমে টাকা ভরা হয়। ওই দিন বিকেল ৬টা নাগাদ ২০ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা সেখানে রাখা হয়েছিল। ওই রাতেই মেশিন উধাও হয়। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন, বড় অঙ্কের টাকা যে ওইদিন রাখা হবে সেই সংক্রান্ত খবর দুষ্কৃতীরা পেয়ে থাকতে পারে। তবে তাদের বক্তব্য, এমন ‘অপারেশন’ চালাতে গেলে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছ’জন লোকের প্রয়োজন। ওই মেশিন লোহার নাট দিয়ে মেঝের ঢালাইয়ের সঙ্গে আটকানো থাকে। মেশিনের ওজন ১০০ কেজিরও বেশি হবে। তা ভেঙে বা খুলে একটি গাড়িতে তুলতে গেলে কয়েক ঘণ্টা সময়েরও প্রয়োজন। রাস্তার ধারে এত দীর্ঘ সময় ধরে দুষ্কর্ম চললেও বিষয়টি কেন কারও নজরে আসল না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেশিনের মধ্যেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও ছিল। তবে পুলিশের বক্তব্য, পাশের এটিএম কাউন্টারে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেখানে দুষ্কৃতীদের ছবি উঠে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ব্যাঙ্কের জোনাল ম্যানেজার উত্তম হাজরা চৌধুরী বলেন, “ওই এটিম কাউন্টার চুক্তি মোতাবেক বেসরকারি সংস্থা টাটা দেখভাল করেন। আমরা সমস্ত ঘটনা ঊর্ধবতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।” বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষে অর্ণব ভট্টাচার্য বলেন, “পুলিশকে সব জানানো হয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement