জয়গাঁর ভুটান গেট।
নির্বাচন এগিয়ে আসতে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে আলিপুরদুয়ারে। আজ, সোমবার বিকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে জয়গাঁর ভুটান গেট। অসম সীমানাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলও চলছে জেলাজুড়ে।
রবিবার বিকালে আলিপুরদুয়ার বিধানসভার চকোয়াখেতি পঞ্চায়েত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলাশাসক ময়ূরী বসু ও পুলিশ সুপার অমিতকুমার শা। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান তাঁরা। সে জন্য জেলার সর্বত্র পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসনের ওই দুই শীর্ষ কর্তা।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে এ বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন কার্যত অন্যমাত্রা নিয়ে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। যা ঘিরে শাসক-বিরোধী ঠান্ডা লড়াইও চলছে। তবে ভোট মরসুমে সে লড়াই যা-ই চলুক না কেন, প্রশাসন বা পুলিশ কর্তাদের অনেকের দাবি, নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ব্যবস্থার কোনও ত্রুটি করা হচ্ছে না। আর সে কারণেই, আলিপুরদুয়ারের মতো সাম্প্রতিক অতীতে কোনও নির্বাচনকে ঘিরে সে অর্থে ঝামেলা না-হওয়া জেলাতেও ইতিমধ্যে ৭৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে।
এই জেলায় রয়েছে ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও অসম সীমানাও। যে অসম সীমানাকে ব্যবহার করে বিজেপি নানা সময় আলিপুরদুয়ারে বহিরাগতদের ঢোকায় বলে একাধিকবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই দুই সীমান্ত ও সীমানাতে ভোটকে ঘিরে কড়া নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার জানান, সোমবার বিকাল থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত জয়গাঁতে ভুটান গেট বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা, সঠিক নথি দেখিয়ে পর্যটকদের যাতায়াতে কোনও বাধা হবে না বলেও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার অসম সীমানাতেও নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে সেই নজরদারি আরও বাড়বে বলেও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “জেলায় নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ ও অবাধ হয়, তা নিশ্চিত করছি আমরা। তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে।”
অন্য দিকে, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসতে শুরু হয়েছে ‘বুথ পাহারা’। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কোথাও শাসক আবার কোথাও বিরোধীরাও নিজেদের গড় সামলাতে কোচবিহারের একাধিক এলাকায় বুথ পাহারায় নেমেছে। অশান্তি এড়াতে সতর্ক নজর রাখছে পুলিশও।
বিজেপির দাবি, ভোটের দিন ঘনিয়ে আসতেই একাধিক বুথে 'সন্ত্রাস' পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তৃণমূল বহু জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। আমরা দলীয় কর্মীদের বুথ পাহারার নির্দেশ দিয়েছি। যাতে কেউ সন্ত্রাস পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে আমরা দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারি।’’
তৃণমূল অবশ্য বিজেপির অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলার চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, ‘‘বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়াতে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই আমরা কর্মীদের সব বুথে নজরদারি করতে বলেছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে