ভাইকে খুনে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা

পুলিশ সূত্রের খবর, দিলীপ বাড়ুই নামের ওই ব্লক সভাপতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নকশালবাড়ি সফরের সময় সব সময় পুরোভাগে ছিলেন। আদিবাসী মাহালি পরিবারের বাড়িতে অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজনে তিনিও ছিলেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০১৭ ০৩:৪৫
Share:

বিজেপি’র এক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে ভাইয়ে খুন করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। শিলিগুড়ির নকশালবাড়ি থানার দেশবন্ধুপাড়া এলাকায় ঘটনা।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের খবর, দিলীপ বাড়ুই নামের ওই ব্লক সভাপতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নকশালবাড়ি সফরের সময় সব সময় পুরোভাগে ছিলেন। আদিবাসী মাহালি পরিবারের বাড়িতে অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজনে তিনিও ছিলেন। গত ২২ জুন নকশালবাড়ি থানায় তার বিরুদ্ধে ভাই পুলীনকে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভাইয়ের স্ত্রী সুস্মিতা বাড়ুই।

শুক্রবার সুস্মিতাদেবী বাপের বাড়ি আমবাড়ি থেকে নকশালবাড়ি গিয়ে বিভিন্ন লোকজন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনার অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিজেপি নেতা দিলীপ বাড়ুই-সহ পরিবারের ছয়জন পলাতক। বাড়ি তালাবন্ধ। দার্জিলিং পুলিশের ডিএসপি (গ্রামীণ) সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘খুন ও দেহ লোপাটের মামলা দায়ের হয়েছে। বিজেপি নেতা দুই ভাই-সহ গোটা পরিবার নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন।’’

Advertisement

তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, গত ৭ জুন পুলীন বাড়ুই বাড়িতেই মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, সম্পত্তির জন্য ৭-৮ বছর আগে একবার মাথায় আঘাত করায় স্বামী মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। বিছানায় থাকতেন। এবার তাকে ফের মাথায় আঘাত করে মারা হয়েছে। পরেরদিন সকাল ৭টা নাগাদ একটি ভ্যান রিকশায় করে স্থানীয় শ্মশানে গিয়ে দেহটি পোড়ানো হয়। চিকিৎসকের শংসাপত্র রয়েছে বলেও পরিবারটি প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করে। সুস্মিতাদেবীর অভিযোগ, যৌথ পরিবার হওয়ায় আমাকে তো বটেই, দুই ছেলেকেও ঠিকঠাক খেতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। তাঁর কথায়, ‘‘অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হই। এই সুযোগেই স্বামীকে তিন ভাই, তিন বৌদি মিলে মেরেছে।’’

নকশালবাড়িতে বাড়ুই পরিবার যথেষ্ট বিত্তশালী বলেই পরিচিত। মোবাইল, সার, মুদি, ওষুধের দোকান-সহ পরিবারটির বাণিজ্যিক ভবনও রয়েছে। বাড়ুই ভাইয়েরা সবাই মিলে ব্যবসা দেখভাল করেন। মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ, অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে টিপসই দিয়ে এর আগে স্বামীর ৫ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছিল দেওরেরা। নকশালবাড়িতে দলের সংগঠন বাড়ানোয় দিলীপ বাডুইকে তৃণমূল মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে বিজেপির দাবি। দলের জেলা সভাপতি প্রবীন অগ্রবাল বলেন, ‘‘স্বাভাবিক মৃত্যুকে খুন বলে সাজানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে ভয় দেখানোতে পরিবারটি বাড়ি ছেড়েছে। আইনের পথে লড়াই হবে। অভিযোগকারী মহিলাই স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। এখন সম্পত্তির জন্য তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।’’ ওই মহিলা ও নকশালবাড়ির তৃণমূল নেতা নির্জ্জল দে, গৌতম ঘোষেরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তৃণমূলকে বদনাম করতে চাইছে বিজেপি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement