(উপরে) তৃণমূলের পতাকা হাতে কমল বর্মণ (পরনে নীল টি-শার্ট)। (নীচে) জেলা বিজেপি কার্যালয়ে কমল বর্মণ। —নিজস্ব ছবি।
বাজারে গিয়েছিলেন কেনাকাটা করতে। সেখান থেকে বিজেপি নেতাকে তুলে নিয়ে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ কোচবিহারে। বাড়ি ফিরে গিয়ে সেই নেতার দাবি, রিভলভার দেখে ভয়ের চোটে বিরোধী শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু অন্তর থেকে তিনি বিজেপি করেন। বিজেপিতেই আছেন। ওই নিয়ে দিনহাটায় জোর রাজনৈতিক তরজা।
দিনহাটার বাসিন্দা কমল বর্মণ বর্তমানে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য। সোমবার রাতে তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। কমলের দাবি, রাস্তায় হঠাৎ তাঁর পথ আটকে দাঁড়ান কয়েক জন। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূলের দিনহাটা-২ ব্লকের সভাপতি দীপককুমার ভট্টাচার্যের বাড়িতে। সেখানে জনাকয়েক নেতার উপস্থিতিতে তাঁর হাতে তৃণমূল পতাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে সেই কমলকে পাশে নিয়ে জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কোচবিহারের বিজেপি সম্পাদক অজয় রায়। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি কমল বর্মণ বাড়ি থেকে বাজারে যাচ্ছিলেন। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর পথ আটকান। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক তৃণমূলে যোগদান করিয়েছেন। কিন্তু কমল বিজেপির সঙ্গেই আছে।’’ বিজেপি নেতার অভিযোগ, এই অনৈতিক কাজে ইন্ধন দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি বলেন, ‘‘উদয়ন গুহ (উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী, দিনহাটার বিধায়ক) দিনহাটায় সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা ভাবছেন এই ভাবে সন্ত্রাস করেই ভোটে জিতবেন। আসলে মানুষ সঙ্গে নেই। তাই ভয়ে পেয়ে এই সব কাজ করছেন।’’
বিজেপির কার্যালয়ে বসে কমলও সেই অভিযোগে সায় দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি নিগমনগর বাজারে ওষুধ আনতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে অপহরণ করা হয়। মারধর করা হয়েছে। তার পর স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি আমাকে রিভলভার দেখিয়ে দীপক ভট্টাচার্যের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রায় ২০০ জন তৃণমূলকর্মীর সামনে আমার হাতে তৃণমূলের পতাকা হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি প্রাণের ভয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি বিজেপিতে ছিলাম, বিজেপিতেই আছি।’’
তৃণমূল ওই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দিনহাটা-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি দীপকের মন্তব্য, ‘‘ডাহা অসত্য বলছেন কমল বর্মণ। গতকাল (সোমবার) রাতে উনি নিজেই আমার কাছে এসে তৃণমূলে যোগ দিতে চান। উনি বলেছিলেন, বিজেপিতে গুরুত্ব পাচ্ছেন না।’’ তৃণমূল নেতার সংযোজন, ‘‘আমি দলের সদস্যদের ডেকে আলাপ-পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। কমল নিজেই তৃণমূলে যোগদান করেন।’’
এমন অভিযোগের কারণ কী? তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোট সামনে। তাই প্রচারের জন্য এ সব করছে বিজেপি। বাজারের কাছ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল এবং সেটা আর কেউ দেখল না, এটা অসম্ভব। পাশাপাশি, অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।