মুখর: গ্রেফতার পরে বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করানো হচ্ছে জুহি চৌধুরীকে। তখনই তিনি মুখ খোলেন। ছবি: সন্দীপ পাল
তখনও এজলাসের দরজার তালা খুলতে ঘণ্টাখানেকরও বেশি বাকি। জলপাইগুড়ি জেলা আদালত চত্বরে মোতায়েন হয়ে গিয়েছে বাহিনী। জংলা পোশাক পরা র্যাফ থেকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে খাকি উর্দিধারীদের আনা শুরু হয়। শুধু কোতোয়ালি থানা নয় রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি সহ আশেপাশের বিভিন্ন থানার বাহিনী থিক থিক করতে থাকে আদালত চত্বরে।
হাজতের একপাশ দড়িয়ে দিয়ে কর্ডনও করে দেওয়া হয়। এই যাবতীয় প্রস্তুতির কারণ, আদালতে আনা হবে শিশু বিক্রি কাণ্ডে ধৃত বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরীকে। পুলিশের আশঙ্কা ছিল জুহিকে বিক্ষোভ দেখানো হতে পারে। আইনশৃঙ্খলারও অবনতিও ঘটতে পারে। কয়েক দফায় বিক্ষোভ হলেও দিনের শেষে পুলিশের দাবি আগে থেকে প্রস্তুতি থাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সকাল থেকে পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও জুহিকে আদালতে নিয়ে আসা হয় সাড়ে ১২টা নাগাদ। নীল কুর্তি, কালচে জিনস পরা জুহি পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর পরে এক মহিলা পুলিশ কর্মী ইশারা করে মুখ ওড়নায় ঢাকতে বলেন। সে পরামর্শ শোনেননি জুহি। উল্টে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার দিকেও তাকিয়েছেন। আদালতে থাকার সময়েই খবর পেয়েছেন দল তাঁকে মহিলা মোর্চার পদ থেকে সরানোর ঘোষণা করেছে। এক পুলিশ কর্মীর দাবি, অপসারণের কথা শুনে একবার নীচুস্বরে কোনও মন্তব্য করেছেন জুহি। ওই পুলিশকর্মী বলেন, ‘‘দল তার পাশে নেই শুনেও আচরণে কোনও পরিবর্তন হয়নি জুহির।’’ মিনিট কুড়ি আদালতে ছিলেন নামী একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ম্যানেজম্যান্ট পাশ করা জুহি। এজলাসে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে জুহি দাবি করেছেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। আপনি কিছু বলবেন? প্রশ্ন শুনে জুহির উত্তর, ‘‘তদন্ত হোক। সব প্রমাণ হবে। সময়ই সব বলবে।’’
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা এ দিন আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। জুহির নাম ধরে স্লোগানও হয়েছে। তৃণমূল ছাড়াও এ দিন জুহিকে দেখতে আদালত চত্বরে জটলা পাকিয়েছিলেন সাধারণ পথচারী থেকে অন্য বিচারপ্রার্থীরাও। আদালত ছেড়ে যাওয়ার সময়ে গাড়িতে দু’পাশে পুলিশি পাহারায় বসে থাকা জুহি সেই ভিড় দেখতে ফিরেও তাকিয়েছেন বারদুয়েক।