পাকিস্তানে হামলা আফগানিস্তানের। সীমান্তে কড়া নজরদারি। ছবি: রয়টার্স।
যত সময় যাচ্ছে, হামলা এবং পাল্টা হামলার বহর ততই বাড়ছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান দু’দেশই মোক্ষম জবাব দিয়েছে বলে দাবি করছে। বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তান। এ বার আফগানিস্তান দাবি করল, তারা ইসলামাবাদের ফৈজ়াবাদে পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ছয় কিলোমিটার দূরে সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজ়াহিদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পাকিস্তান বার বার যুদ্ধের রাস্তায় যাচ্ছে। তারা যদি এই কাজ লাগাতার করতে থাকে, আফগানিস্তানেরও অধিকার আছে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার। তাঁর কথায়, ‘‘আমরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পাল্টা জবাব দেওয়া হবেই। ইতিমধ্যে সেই জবাবও আমরা দিচ্ছি।’’ মুজ়াহিদের দাবি, ইসামলামাবাদে পাক সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়াও আরও কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘এই হামলার মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানকে এটাই বার্তা দিতে চাই, ওদের টুঁটি চেপে ধরতে বেশি সময় লাগবে না।’’
আল জ়াজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাজুর শহরেও আত্মঘাতী ড্রোন এবং মর্টার হামলা হয়েছে। সেই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের এক মুখপাত্র এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেছেন, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের দফতরের ছ’কিলোমিটার দূরে আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। আফগান সেনার তরফেও দাবি করা হয়েছে, ফৈজ়াবাদ, নওশেরা, জামরুদ মিলিটারি কলোনি এবং অ্যাবটাবাদে বিমান হামলা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে রাতভর ‘গজ়ব লিল-হক’ অভিযান চালায় পাকিস্তান বায়ুসেনা। কাবুল, কন্দহর, পকতিয়ায় মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণে ১৩০ তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। ইসলামাবাদ ‘খোলাখুলি’ যুদ্ধের হুঙ্কার দেয়। তার পরই আফগানিস্তান হুঁশিয়ারি দেয়, এ জবাব দেওয়া হবে শীঘ্রই। তার পরই শুক্রবার সকাল হতেই হামলার বহর বৃদ্ধি করে আফগানিস্তান।
শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (পাক-আফগান আন্তর্জাতিক সীমান্ত) বরাবর ইসলামাবাদ হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তালিবানের। পাল্টা হামলায় মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে আফগান সেনা সীমান্তবর্তী পাক সেনাঘাঁটি এবং ১৯টি সেনাচৌকি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, পাল্টা হানায় ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন পাক সেনাকে জীবিত বন্দি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার সকালে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে যে কোনও সাহায্যে ইরান প্রস্তুত। রাশিয়া এবং চিনও এই সংঘর্ষ থামাতে দু’দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে।