প্রার্থীদের জন্য গোপন ডেরার খোঁজ

শনিবার পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে আজ সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা শুরু হবে। চলবে এক সপ্তাহ। এই ‘অল্প’ সময়ে প্রার্থী খুঁজে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Advertisement

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:০৫
Share:

কেউ খোঁজ করছেন পাহাড়ে সস্তার রিসর্টে ঘর ফাঁকা রয়েছে কি না, কেউ বা খবর নিচ্ছেন পাশের জেলার হোটেলে। প্রায় দু’সপ্তাহের জন্য ঘর চাই। তাই পকেটের খেয়ালও রাখতে হবে। নিজের এলাকায় পঞ্চায়েতের প্রার্থীদের ‘লুকিয়ে’ রাখার জায়গা খুঁজছেন বিজেপি নেতারা। ভোটের ফল বের হওয়ার পর থেকে বোর্ড গঠন পর্যন্ত নির্বাচিত সদস্যদের গোপন ডেরায় রাখার নজির উত্তরবঙ্গ বহু দেখেছে। এ বার মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই প্রার্থী নিয়ে লুকোচুরি শুরু হতে চলেছে। ভোট ঘোষণার পরে নেতাদের থেকে অন্তত এমনই ইঙ্গিত মিলছে।

Advertisement

শনিবার পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে আজ সোমবার থেকেই মনোনয়ন জমা শুরু হবে। চলবে এক সপ্তাহ। এই ‘অল্প’ সময়ে প্রার্থী খুঁজে পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। তার উপরেও পদ্ম শিবিরে যে চিন্তা সব থেকে বেশি গ্রাস করেছে দলের নেতাদের তা হলো, মনোনয়ন দেওয়ার পরেও তা বহাল রাখা যাবে কি? হুমকি দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হবে না তো? কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে একবার মনোনয়ন জমা করতে পারলে প্রার্থীদের লুকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার স্থানীয় বিজেপি নেতারা।

গত শনিবার নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণার পরেই জেলায় জেলায় প্রার্থী নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ পাঠানো হয় বিজেপির সদর দফতর থেকে। জলপাইগুড়ি জেলার এক নেতার কথায়, ‘‘আমাদের বলা হয়েছে প্রার্থী বাছাই এবং মনোনয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজে গোপনীয়তা বজায় রাখতে। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।’’

Advertisement

কেন এমন গোপনীয়তার নির্দেশ?

বিজেপির অভিযোগ, শাসক দল তৃণমূল পেশি শক্তির জোরে ভোট করাতে চাইছে। গত শনিবার থেকেই হুমকি-ভয় দেখানো শুরু হয়ে গিয়েছে বলে দাবি। বিজেপির উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক রথীন বসুর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জলপাইগুড়ি জেলার বেশ কিছু এলাকায় বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়ির সামনে দিয়ে তৃণমূলের মিছিল, জমায়েত, চেঁচামেচি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।

রথীনবাবুর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল টের পেয়েছে পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে। গতকাল রাতেই আমাদের প্রার্থী হিসেবে বাছাই কয়েকজনের বাড়ির সামনে গিয়ে চেঁচামেচি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল। মনোনয়ন দখলের পরে এই হুমকি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে।’’

তবে তাতে যে দল ভীত নয়, তা-ও দাবি তাঁর। দলের কৌশল নিয়ে বিশদে মুখ খুলতে না চাইলেও রথীনবাবুর ইঙ্গিত, ‘‘হুমকি দিলে পাল্টা জবাব পেতে হবে তৃণমূলকে। আমরা অনেকরকম কৌশল তৈরি করেছি। ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেওয়া হবে না।’’

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, বানারহাট, মোহিতনগর সহ বেশ কিছু এলাকায় বরাবরই পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির ফল ভাল হয়। সে সব এলাকার প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত বলে সূত্রের খবর।

আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, গোপনীয়তা বজায় রেখেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে এই প্রার্থীদের দিয়ে মনোনয়ন জমা করানো হবে। তারপরে গ্রাম থেকে বাইরে কোনও গোপন ডেরায় রাখা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে প্রার্থীদের ফিরিয়ে এনে প্রচার করানো হবে। তৃণমূলের হুমকির থেকে বাঁচতে এই পন্থা। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর পাল্টা দাবি, ‘‘তৃণমূল কেন হুমকি দিতে যাবে? বিজেপি প্রার্থী হওয়ার লোক খুঁজে পাচ্ছে না। হার নিশ্চিত জেনে মিথ্যে অভিযোগ করছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement