Calcutta High Court Circuit Bench

ইমারত হোক আদালত, বার্তা প্রধান বিচারপতির

প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলার সংখ্যা বাড়বে, দ্রুত বিচারের আশাও বাড়বে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১২
Share:

জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হল। নিজস্ব চিত্র।

ইমারত থেকে সার্কিট বেঞ্চ ভবন আদালত হয়ে উঠবে, এমনই আশার বার্তা শুনিয়ে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ ভবনে বিচার-প্রক্রিয়া শুরু করলেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এ দিন সার্কিট বেঞ্চের আদালত কক্ষে বসে বলেন, “গত ১৭ জানুয়ারি যেটি উদ্বোধন হয়েছে, সেটি একটি ইমারত। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ প্রকৃত আদালত হয়ে উঠবে বার এবং বেঞ্চের (আইনজীবী এবং বিচারপতিদের) হৃদয় এবং আত্মার সমন্বয়ে। আদালত ভবন মানে শুধু ইট-সিমেন্টের অসামান্য স্থাপত্য নয়, বিচারপ্রার্থীদের আশা, যন্ত্রণা, আকাঙ্খা এবং ন্যায়-বিচারের জন্য লড়াইও আদালত ভবন বহন করে নিয়ে চলে। এই আশা তখনই পূরণ হবে, যখন বার এবং বেঞ্চের সমান সহযোগিতা এবং প্রচেষ্টা থাকবে।”

এ দিন প্রধান বিচারপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলার সংখ্যা বাড়বে, দ্রুত বিচারের আশাও বাড়বে। সেই আশা পূর্ণ হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বুধবার বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রধান বিচারপতি-সহ বিচারপতি শম্পা সরকার, শুভ্রা ঘোষ এবং পার্থসারথী সেনকে সংবর্ধনা দেওয়ার মাধ্যমে। প্রধান বিচারপতি সকলের উদ্দেশে বার্তা দেন।

সংবর্ধনার পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ বসে। সেখানেই প্রথমে শুনানির জন্য এসেছিল একটি জনস্বার্থ মামলা। বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা ২০২১ সালে বন দফতরের বিরুদ্ধে গাছ কাটা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। যদিও জনস্বার্থ মামলা কলকাতায় হাই কোর্টের মূল বেঞ্চে হয় বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন। জনস্বার্থ মামলার পরে অস্থায়ী বেঞ্চে থাকা কিছু মামলার শুনানি হয়। কিছু ক্ষেত্রে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তী দিন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি জলপাইগুড়িতে বেঞ্চ করবেন।

জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থাপত্য থেকে শুরু করে নির্মাণ, সবই বিভিন্ন মহলে বারবার প্রশংসিত হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভবনের ছবিও ছড়িয়েছে দেদার। প্রশংসাও হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, এ দিন প্রধান বিচারপতি শুরুতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু ভবন দেখলে হবে না, প্রকৃত আদালত হতে হবে এই বাড়িটিকে।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নিজের বক্তব্যে দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি হেদায়াতুল্লার প্রসঙ্গও তোলেন। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট গঠনের সময়ে কী ভাবে বিচারপতি হেদায়তুল্লাকে পরিকাঠামো নিয়ে লড়াই করতে হয়েছিল, সেই কাহিনি শোনান। তিনি জানান, সেখানে ডেস্কের বদলে ছিল পিচবোর্ড। প্রথম বার বসতেই বিচারপতি চেয়ার ভেঙে পড়ে গিয়েছিলেন। এ দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, “জলপাইগুড়িতে সাকির্ট বেঞ্চের স্বপ্ন কয়েক দশক আগে জন্ম নিয়েছিল, কিন্তু সেটি সত্যি হল আজকে।“

প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ-সহ বিচারপতি শম্পা সরকার, শুভ্রা ঘোষ এবং পার্থসারথি সেনের একক বেঞ্চও এ দিন বসেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন