Suvendu Adhikari

‘ঘুরতে নয়, আমি উন্নয়ন করতে আসব!’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম বার পাহাড়ে শুভেন্দু, বিপুল আশ্বাস দিলেন কার্শিয়াঙে

পশ্চিমবঙ্গে বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে ধারাবাহিক ভাবে ভাল ফল করে এসেছে বিজেপি। সেই কথা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বার বার পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৫:৩০
Share:

মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — নিজস্ব চিত্র।

‘ঋণ’ শোধ করার জন্য পর পর উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাসখানেক আগে উত্তরবঙ্গে এলেও শিলিগুড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল সেই সফর। পরে আবার উত্তরবঙ্গ সফরে গেলেও পাহাড়ে যাননি তিনি। এ বার এক দিনের সফরে কার্শিয়াং গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সেখানকার সভা থেকে পাহাড়বাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পাহাড়ে তিনি ঘুরতে আসবেন না। উন্নয়ন এবং কাজের জন্য আসবেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে পাহাড়ে।’’

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে ধারাবাহিক ভাবে ভাল ফল করে এসেছে বিজেপি। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের মন্টেভিট গ্রাউন্ড থেকে সেই কথা স্মরণ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সাল থেকে বার বার পাহাড়ে পদ্ম ফুটেছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পাহাড়বাসী সব সময়েই বিজেপির উপর ভরসা রেখেছে। সেই ভরসা, প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পাহাড়ে উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করবে রাজ্য সরকার। নির্বাচনী ইস্তাহারে যা যা ছিল, তা পূরণ হবে।’’

মঙ্গলবার সকালে বিমানে বাগডোগরা নামেন শুভেন্দু। সেখান থেকে সড়কপথে পৌঁছে যান কার্শিয়াঙে। পাহাড় নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা পূরণের কথা বার বার উঠে আসে শুভেন্দুর কথায়। একই সঙ্গে পাহাড়ের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই, ভরত ছেত্রী, দুর্গা মুর্মু। এ ছাড়াও রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি, জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং এবং বিজেপি হিল সভাপতি সঞ্জীব লামা-সহ বিশিষ্ট জনেরা।

Advertisement

চা-শ্রমিকদের দুরবস্থা নিয়ে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের অবসান ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী ‘পিএম চা-শ্রমিক যোজনা’ চালু করলেও আগের সরকার দুর্নীতির কারণে তা কার্যকর করেনি। এখন বন্ধ থাকা ২৫টি চা-বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে। টি-বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চা-বাগানের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে পাহাড়কে সব সময়েই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ে উন্নয়নের কথা সে ভাবে ভাবতেন না বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রী এখানে ঘুরতে আসতেন। আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে ঘুরতে আসবে না।’’ তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘পাহাড়ে সব বন্ধ চা-বাগান খুলবে।’’

শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘‘তোলাবাজি, কাটমানি ছাড়া আর কিছুই হয়নি আগের সরকারের আমলে। কিন্তু নতুন সরকার এই তোলাবাজি, কাটমানি বরদাস্ত করবে না। জিটিএ-তে দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকারের আমলে হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, জিটিএ-তে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তের প্রয়োজন আছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁদের জেলে ভরা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না। যাঁরা লুটেছেন, তাঁদের জেলের ভিতরে ঢোকানোর কাজ করবে আমাদের সরকার।’’

পুলিশে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগের কথাও বলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রের সব প্রকল্পের সুবিধা পাবেন পাহাড়বাসী। ডবল ইঞ্জিন সরকারে পাহাড়ে উন্নয়ন হবে। শুভেন্দুর আশ্বাস, গোর্খাদের বিরুদ্ধে আগের সরকারের দেওয়া মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়া হবে। শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন বিজেপির সরকার যে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, তা-ও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় জোর দিয়ে কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, কার্শিয়াং হাসপাতালের সংস্কার এবং সরকারি স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরিতে উদ্যোী হচ্ছে রাজ্য। এ ছাড়া ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস গ্রাউন্ড নির্মাণের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। সে বার বিজেপির টিকিটে ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন যশবন্ত সিংহ। ২০১৪ সালেই দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র ধরে রেখেছিল বিজেপি। সে বছর ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া। ২০১৯ সাল থেকে টানা ওই কেন্দ্রে জিতছেন রাজু বিস্তা। ভোটে জেতার পর মাসখানেক আগে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে বিজেপির জয়ের ধারার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘‘এ বার ঋণ শোধের পালা। বিজেপির দেওয়া সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে।’’ এ-ও জানিয়েছিলেন, প্রতি মাসে অন্তত এক বার উত্তরবঙ্গে আসবেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement