(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওম বিড়লা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ইডির জিজ্ঞাসাবাদ চলার সময়েই সাক্ষাতের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সময় দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তৃণমূল সূত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। প্রাথমিকের নিয়োগ মামলার তদন্তে সোমবার অভিষেককে তলব করেছিল ইডি। সেই তলবে সাড়া দিয়ে ইডির দফতর সিজি কমপ্লেক্সে যান অভিষেক। সকাল ১১টায় সিজিও-তে ঢুকেছিলেন তিনি। প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১০টায় ইডি দফতর থেকে বেরোন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইডির জিজ্ঞাসাবাদ চলার সময়েই দুপুর ২টো নাগাদ স্পিকারের দফতর থেকে মেল পাঠানো হয় অভিষেককে। ২টো ১০ মিনিটে বর্ধমান দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে ফোন করে মেল পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়। কীর্তিকে বলা হয় সোমবার বিকেল ৪টের মধ্যে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন অভিষেক।
তৃণমূল সূত্রে খবর, স্পিকারের দফতর থেকে ফোন আসার পরেই তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে কথা বলেন কীর্তি। ডেরেক কীর্তিকে জানান যে, ইডি দফতরে রয়েছেন অভিষেক। তাই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে মেল দেখা কিংবা তার প্রেক্ষিতে জবাব দেওয়া সম্ভব নয়।
কীর্তি পুরো বিষয়টি স্পিকারের দফতরকে জানান। দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ তিনি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তৃণমূল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর অভিষেককে এই মেলের বিষয়ে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হওয়ার পরে রবিবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক। তিন পাতার ওই চিঠিতে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক লেখেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই।” তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, স্পিকারের কাছে সেইও আর্জিও জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রবিবার স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে অভিষেকের চিঠি পৌঁছে দিয়েছিলেন কীর্তি এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। তৃণমূল সূত্রে খবর, সেই সময়েই স্পিকারের কাছে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন অভিষেক।