কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। ফাইল চিত্র।
মোদী জাদু অন্যত্র চললেও বাংলায় চলবে না! সোমবার কোচবিহারে হরিণচওড়া খেলার মাঠে জনসভা থেকে এ ভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তিনি বলেন, ‘‘এতদিন ধরে মোদীজি সরকারের কাজ হল দেশের কাজ ছেড়ে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ঘোরা। মোদীজি কি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান? না কি দেশে প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান? মোদীজিকে বলছি, আপনার জাদু অন্য জায়গায় চললেও পশ্চিমবঙ্গে চলবে না।’’ পরে এ দিন শিলিগুড়ির নকশালবাড়িতে নন্দপ্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে সভা থেকে বলেন, ‘‘বাংলার মানুষের কাছে আবেদন এই নির্বাচনে মোদীকে শবক শেখান। আমরা জোড়ার কাজ করি। আর মোদী ভাঙার (তোড়ার) কাজ করেন।’’
উভয় সভাতেই মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে খড়্গে কড়া সমালোচনা করেন মোদী সরকারের। তিনি বলেন, ‘‘মোদী প্রচার করছে কংগ্রেস এবং বিরোধীরা মিলে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করছে। এটা মিথ্যে। মহিলা সংরক্ষণ বিলের নামে তার পেটে ডিলিমিটেশন বিল ছিল। আসলে বিলটি দেশকে শেষ করে দেশের নকশা বদলানো উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল। তাই সবাই মিলে আটকেছে। এটা মোদীর হার।’’ মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা আসলে বিজেপি করছে বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেত্রী মহিলা ছিলেন। অনেক দায়িত্ব পালন করছেন মহিলারা। বিজেপিতে কোথায় মহিলারা? তাঁর প্রস্তাব, ‘‘ভোটের পরে সব দলকে ডাকুন, বৈঠক করুন। সেখানেই আলোচনা করুন কীভাবে বিল পাশ হবে। নির্বাচনের সময় এই বিল আনার কী দরকার?’’
নকশালবাড়ির সভায় তৃণমূলের কিছুটা সমালোচনাও শোনা গেল খড়্গের মুখে। তিনি বলেন, ‘‘আগে বাংলা এগিয়ে ছিল। কলকারখানা ছিল। এখন এক দিকে বিজেপি এবং এক দিকে তৃণমূল এই দু’য়ের লড়াইয়ে ক্ষতি করছে। পতি-পত্নীর ঝগড়ায় যেমন বাচ্চাদের ক্ষতি হয় তেমনই দু’জনের ঝগড়ায় বাংলার ক্ষতি হচ্ছে।’’ তাঁর সংযোজন, কাজের জন্য বাংলা থেকে অনেকে বেঙ্গালুরু, পুনে, চেন্নাই চলে যাচ্ছে। রাজ্য সরকার ভাল হলে, মোদী ভাল হলে কেন বাইরে যাবে? প্রসঙ্গত কোচবিহারে ন’টি আসনে এবং দার্জিলিং জেলার পাঁচটি আসনের সবক’টিতেই এ বারে প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস।
বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কংগ্রেসের কোনও সংগঠন নেই। গুরুত্ব পেতেই বিজেপির বিরুদ্ধে বলছেন। তাতে কোনও লাভ হবে না।’’ শিলিগুড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বলেছেন,‘‘কংগ্রেস সভাপতি প্রবীণ ব্যক্তি। ঝগড়ায় বাংলার ক্ষতি হচ্ছে বলে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। কৃষিতে, মাঝারি শিল্পে বাংলা এগিয়েছে। ভারী শিল্পের জন্য চেষ্টা হচ্ছে। কেন্দ্র প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তার মধ্যেএগোতে হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে