অর্ণয় গোস্বামী ও অহনা মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র ।
সিবিএসই-র দশম শ্রেণির পরীক্ষায় তাক লাগাল চুঁচুড়ার খাদিনামোড়ের একটি বেসরকারি স্কুলের দুই ছাত্র-ছাত্রী— অর্ণয় গোস্বামী ও অহনা মণ্ডল। দু’জনেই মগরার বিটিপিএস আবাসনের বাসিন্দা। ৫০০-র মধ্যে অর্ণয়ের সংগ্রহ ৪৯৮ এবং অহনার ৪৯৭। আগামীদিনে দু'জনেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।
দুই ভাইয়ের মধ্যে অর্ণয় বড়। তাঁর বাবা পীযূষ, আগে বক্রেশ্বর থার্মাল পাওয়ারে কাজ করতেন। সেই সূত্রে বীরভূমের একটি বেসরকারি স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু অর্ণয়ের। ২০২২ সালে ব্যান্ডেলে বদলির হওয়ার পর খাদিনামোড়ের ওই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয় অর্ণয়। ইংরেজি, বাংলা, অঙ্ক, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) তাঁর সংগ্রহ যথাক্রমে ৯৯, ১০০, ১০০, ৯৭, ৯৯ ও ১০০। আবশ্যিক ইংরেজি বাদ দিয়ে সেরা পাঁচটি বিষয়ের যোগফল ৪৯৮। অর্ণয়ের মা গৃহবধূ মৌসুমি ঘর সামলানোর পাশাপাশি দুই ছেলের দেখভালের দায়িত্বও সামলান। ফুটবল খেলতে এবং গিটার বাজাতে ভালবাসে অর্ণয়। পাশাপাশি সময় পেলে সিনেমাও দেখে সে। পীযূষ বলেন, ‘‘আপাতত ছেলের লক্ষ্য, উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করা। তারপর উচ্চ শিক্ষায় ও যে পথে এগোতে চাইবে, আমরা পাশে থাকব।’’
কর্মসূত্রে সাগরদিঘিতে ছিলেন অহনার বাবা নিখিল। ২০২১ সালে ব্যান্ডেল থার্মাল পাওয়ারে বদলি। ওই বছরই অহনা খাদিনা মোড়ের ওই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। অহনার এক ভাই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ছোট থেকেই মেধাবী অহনা মাত্র ৮ বছর বয়সে মাকে হারায়। তারপর দুই ছেলেমেয়েকে মানুষ করার দায়িত্ব নিখিলের কাঁধেই রয়েছে। ইংরেজি, বাংলা ও সমাজবিজ্ঞানে ৯৯, অঙ্কে ১০০, বিজ্ঞানে ৯৬ এবং এআই-তে ১০০ নম্বর পেয়েছে অহনা। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই এবং সিনেনা দেখতে ভালবাসে অহনা। নিখিল বলেন, ‘‘আপাতত বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা মেয়ের। আমি সর্বদা ওর পাশে আছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে