তেনজিং নোরগের প্রথম এভারেস্ট জয়ের ৬৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড়ে তেনজিং নোরগের মূর্তির সামনে অনুষ্ঠানে। শুক্রবার সন্দীপ পালের তোলা ছবি।
হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে (এইচএমআই) তেনজিং নোরগের ১০১ জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আরও তিনজন এভারেস্ট জয়ীকে তাঁদের পরিবার সমেত সংবর্ধনা জানানো হল। শুক্রবার সকালে এইচএমআই তেনজিং নোরগের জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি হয়। সেখানে ১৯৬৫ সালের এভারেস্ট বিজয়ীদের সংবর্ধিত করা হয়েছে। সকালে এইচএমআই চত্বরে থাকা তেনজিং নোরগের মূর্তিতে ফুল, খাদা দিয়ে সম্মান জানান বাসিন্দারা। বিকালে ১৯৬৫ সালের এভারেস্ট জয়ের তথ্যচিত্রটিও দেখানো হয়। ওই বছরের এভারেস্ট জয়ী এমএস কোহলি, জিএস ভানগু এবং মুল্ক রাজ উপস্থিত ছিলেন। এসেছিলেন, তেনজিং নোরগের ছেলে জামলিং নোরগেও। শিলিগুড়িতে বিকালে দার্জিলিং মোড়ের এভারেস্ট মূর্তির সামনে অনুষ্ঠান হয়েছে। পরিবেশপ্রমী সংস্থা ন্যাফই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা।
এইচএমআই-র প্রিন্সিপাল গুলশন চাড্ডা জানান, তেনজিং নোরগে ১৯৫৩ সালে ২৯ মে তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয় করেছিলেন। আবার, ১৯৬৫ সালের ওই দিনই ভারতীয় দল প্রথমবার এভারেস্টে পাল দিয়েছিল। তাই আমরা ২৯ মে ‘ন্যাশনাল মাউন্টেনিয়ারিং ডে’ হিসাবে ঘোষণা করা হোক, তা চাইছি।
এইচএমআই-র তরফে জানানো হয়েছে, তেনজিং নোরগে ১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এইচএমআই-র ফিন্ড ডাইরেক্টরও ছিলেন। স্যার এডমন্ড হিলারিকে নিয়ে তিনিই প্রথম এভারেস্ট জয় করেন। ১৯৮৬ সালের ৯ মে তিনি দার্জিলিঙেই মারা যান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেক ১৯৬৫ সালের এভারেস্ট বিজয়ী এমএস কোহলি জানান, তেনজিং-এর মত দেশপ্রেমী আমরা দেখিনি। এভারেস্ট জয়ের পর থেকে তিনি বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে গিয়ে সুখ স্বাচ্ছন্দে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেনি। সেই সময় তাঁর বেতনও খুব বেশি ছিল না। উনি এভারেস্ট জয় না করলে হয়ত, এইচএমআই-র জন্মও হত না। তৈরি হত না ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফেডারেশনও। আমাদের ১৯৬৫ সালের অভিযান ওর জন্যই সফল হয়েছিল। দলের ১৯ জনকেই অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ন’জনই বর্তমানে জীবিত আছেন।