প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সরকারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার মালদহে তাঁর কর্মসূচি। রবিবার হুগলির সিঙ্গুরে। দু’দিনের এই সফরে তাঁর রয়েছে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস।
আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ মালদাহ টাউন স্টেশনে পৌঁছোনোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি প্রথমে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করবেন। এর পর পৌনে ২টো নাগাদ সাহাপুর মালদহ বাইপাস সংলগ্ন মাঠে মোদীর সভা রয়েছে। সেখানে ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি।
এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বালুরঘাট ও হিলির মধ্যে একটি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে মালবাহী ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং শিলিগুড়িতে লোকো শেডের মানোন্নয়ন। এ ছাড়াও রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিউ কোচবিহার-বামনহাট ও নিউ কোচবিহার-বক্সিরহাট রেললাইনের বিদ্যুতায়ন। এই সফরে ভার্চুয়ালি আরও চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। প্রশাসনিক সভার শেষে রয়েছে মোদীর রাজনৈতিক সভা।
এ ছাড়াও ধূপগুড়ি-ফালাকাটা (৩১ডি) জাতীয় সড়কের কিছু অংশের সংস্কার ও চার লেনের শিলান্যাস করবেন মোদী। যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে এই সংস্কার এবং নতুন চার লেনের রাস্তা।
মোদী তাঁর এই সফর এবং কর্মসূচি সংক্রান্ত এক্স হ্যন্ডলে পোস্টও করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আগামীকাল, ১৭ জানুয়ারি আমি পশ্চিমবঙ্গে থাকব। মালদহে একটি অনুষ্ঠানে ৩,২৫০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। এ ছাড়াও, আগামীকালের অনুষ্ঠানে হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ সূচনা করা হবে।এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”
এক্স হ্যন্ডলে মোদীর করা পোস্ট।
পরের দিন অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) দুপুর ৩টে নাগাদ হুগলির সিঙ্গুরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার শিলান্যাস করার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে বালাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাস করবেন। পাশাপাশি শিলান্যাস করবেন জলপথ পরিবহণ টার্মিনাল এবং একটি রেল ওভারব্রিজও। তিনি কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ক্যাটামারানেরও উদ্বোধন করবেন।
এ ছাড়াও রবিবার মোদী জয়রামবাটী–বড়গোপীনাথপুর–ময়নাপুর নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করবেন। এই রেললাইনটি তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর নতুন রেললাইন প্রকল্পের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নতুন সংযোগের ফলে বাঁকুড়া ও হুগলি জেলার মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হবে।
শনি ও রবিবার মালদহে এবং সিঙ্গুরে জনসভা করবেন মোদী। ইতিমধ্যেই মোদীর জনসভার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। শুধু প্রশাসনিক কাজের নিরিখে নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও মোদীর এই পশ্চিমবঙ্গ সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন একাংশ।
গত ডিসেম্বরের ২০ তারিখে নদিয়া জেলার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ছিল। প্রধানমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে তাহেরপুর রওনাও দেন। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা না-থাকায় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার তাহেরপুরে নামতে পারেনি। তিনি বিমানবন্দরে ফিরে অডিয়ো ব্রিজ কলের মাধ্যমে তাহেরপুরে উপস্থিত জমায়েতের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাড়াতাড়িই আবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন। প্রতিশ্রুতি মতোই ফের পশ্চিমবঙ্গে আসছেন মোদী।