BJP

হারের দায় নিন শীর্ষ নেতৃত্ব: জেলা বিজেপি

জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ এবং মালবাজারে ভোটে হারের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভুল কৌশল ছিল বলে জেলা নেতাদের দাবি।

Advertisement

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২১ ০৫:৫২
Share:

প্রতীকী ছবি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দোষেই ভোটে হারতে হয়েছে বলে দলের বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপির জেলা নেতারা। বৈঠকে নেতাদের সরাসরি দাবি, হারের দায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই নিতে হবে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন এবং কিশোর বর্মণ— এই তিন নেতাকে দ্রুত জেলায় পাঠানো হোক, রাজ্য কমিটির কাছে এমন বার্তাও পাঠিয়েছে জেলা বিজেপি। জেলা নেতৃত্বের দাবি, এই তিন নেতাকে জেলায় এসে ভোটে হারের দায়িত্ব নিতে হবে এবং ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

Advertisement

বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু শুক্রবার জলপাইগুড়িতে এসে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, সে বৈঠকেও দুই কেন্দ্রীয় নেতা এবং এক রাজ্য নেতার প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে এসেছে। সায়ন্তনের সামনেই বিজেপির জেলা কমিটির এক সদস্য রাজ্যের নেতাদের নাম করে বলেছেন, “ভোটের আগে এক নেতা এসে আমাদের বলেছিলেন, দল এমনিই ভোটে জিতবে। কারও সাহায্য প্রয়োজন নেই। সেই নেতাও একবার জেলায় আসুন।”

সাংগঠনিক বিষয়ে সায়ন্তন সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করেননি। যদিও সায়ন্তনের বৈঠক নিয়েও দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এক জেলা নেতা সায়ন্তনের এই বৈঠকে যোগই দেননি। সূত্রের খবর, সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ ওই জেলা নেতার সঙ্গে সায়ন্তন আলাদা ভাবে কথা বলার প্রস্তাব দিলেও সেই নেতা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। বৈঠকে সায়ন্তন নেতাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। সকলে যে ক্ষোভ জানিয়েছেন বা পরামর্শ দিয়েছেন তার সবই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেবেন। ভোটে বিপর্যয়ের পরে জেলাওয়াড়ি বৈঠক শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। জলপাগুড়িতেও শুক্রবার সেই বৈঠক হয়েছে।

Advertisement

জেলার সাতটি বিধানসভার মধ্যে চারটিতে বিজেপি জয় পেয়েছে। গত লোকসভার নিরিখে সাতটিতেই বিজেপি এগিয়ে ছিল। জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ এবং মালবাজারে ভোটে হারের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভুল কৌশল ছিল বলে জেলা নেতাদের দাবি। ভুল কৌশল বলতে প্রার্থী বাছাই এবং ভোট পরিচালনার নানা কৌশলকেই বুঝিয়েছেন জেলা নেতারা। যে দুই বিষয়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই তিন বিধানসভায় জেলার মতকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ।

বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, “আমাদের যা বলার নেতৃত্বকে জানিয়েছি। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে কিছু আবেদন রেখেছি।” জেলার এক শীর্ষ নেতার কথায়, “আমরা পরিষ্কার বলেছি কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন এবং আমাদের রাজ্যে সাংগঠনিক সহকারী সম্পাদক কিশোর বর্মণকে জেলায় আসতে হবে। ওঁরাই প্রার্থী ঠিক করেছে, কৌশল ঠিক করেছেন। তাঁদের জেলায় এসে হারের কারণ বলতে হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement