খেলা হোক বা বির্তক, ক্যুইজের মতো প্রতিযোগিতা স্কুলগুলির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে বছরভর। প্রাক্তনীদের একাংশের দাবি, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফল হল বছরভর লড়াইয়ের ‘ফাইনাল’। মাধ্যমিকের নিরিখে সেই লড়াইয়ে প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে গেল জেলা স্কুল। এক নম্বরের জন্য মেধা তালিকার প্রথম দশে থাকতে পারেনি জেলা স্কুলের সমৃক সরকার। একাদশতম স্থানে থাকা সমৃক জলপাইগুড়ি জেলাতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়াও ‘এএ’ গ্রেড অর্থাৎ ৯০ শতাংশের ওপরে নম্বর পেয়েছে ১৭ জন পরীক্ষার্থী। শহরের প্রথম চারটে স্কুলের নিরিখে বেশি। তুলমূল্য বিচারে কাছাকাছিই রয়েছে সুনীতিবালা সদর গার্লস, ফণীন্দ্রদেব ইন্সটিটিউশন এবং জলপাইগুড়ি রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়।
মাধ্যমিকের ফলের নিরিখে জলপাইগুড়ি শহরের এই চার স্কুলই সেরার তালিকায়। জেলা স্কুলে এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১০ জন, পাশ করেছে সকলেই। ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে ১৭ জন, আশি শতাংশ অথবা তার বেশি নম্বর পেয়েছে ২৪ জন। সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে জেলা স্কুলের পরেই রয়েছে সুনীতিবালা সদর গার্লস হাইস্কুল। স্কুলের ছাত্রী শ্রেয়সী সরকার পেয়েছে ৬৬৮ নম্বর। নব্বই শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছে ১২ জন। যদিও, ‘এ এ’ গ্রেড পাওয়ার দিক থেকে সদর গার্লসের থেকে এগিয়ে রয়েছে ফণীন্দ্রদেব ইন্সটিটিউশন (এফডিআই)। এইডিআই-এর ১৪ জন পরীক্ষার্থী নব্বই শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। এফডিআই-এর ছাত্র সৌম্য ভট্টাচার্য ৬৬৬ নম্বর পেয়ে স্কুলের সেরা হয়েছে। জলপাইগুড়ি রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ের সেরা হয়েছে দুই ছাত্রী। তন্ময়িতা পাল এবং মার্সোলা বসুমাতা দু’জনেই ৬৩৮ নম্বর পেয়েছে। প্রথম বিভাগে পাশ করার নিরিখে অবশ্য ফণীন্দ্রদেব তথা এফডিআই-এর পড়ুয়াদের শতাংশ বেশি। স্কুলের প্রায় ৯০ শতাংশ ছাত্র প্রথম বিভাগে পাশ করেছে। ১৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৭। স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, সারা বছরই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধীরেণ ঝম্পটি বলেন, ‘‘সব পড়ুয়াদের প্রতি নজর দেওয়া হয়। সে কারণেই স্কুলে ফল ধারাবাহিক ভাবে ভাল হচ্ছে।’’
এক নম্বরের জন্য মেধা তালিকার প্রথম দশে না থাকার আক্ষেপ রয়েছে জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধীরাজ মোহন ঘোষের। তাঁর কথায়, ‘‘স্কুলের অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা ইতিহাসে তুলনামুলক কম নম্বর পেয়েছে। না হলে ফল আরও ভাল হতো।’’ স্কুলের ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অপর্ণা বাগচী। তিনি বলেন, “আমাদের স্কুলের ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। আর একটু ভাল হতে পারতো। মনে হচ্ছে বাংলা এবং ইতিহাসে গড় নম্বর দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাগরিকা দত্ত বলেন, “স্কুলে প্রথম হওয়া তন্ময়িতা পাল পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। না হলে তার ফল আরও ভাল হতো।”
ফাইনালের প্রথম রাউন্ড শেষ। এবার অপেক্ষা উচ্চ মাধ্যমিকের ফলের।