প্রতীকী ছবি।
দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিজেপি পুরভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সেই প্রস্তুতিতেও বিজেপির পিছু ছাড়ছে না দ্বন্দ্ব। প্রতি পুরসভা পিছু একটি করে পরিচালন কমিটি তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য নেতৃত্ব। সেই কমিটি তৈরির আগেই জলপাইগুড়ির একাধিক জেলা নেতা রাজ্য কমিটির কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, বাড়িতে বসে কমিটি তৈরি করছেন জেলা নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে আজ, রবিবার বৈঠকে বসছে জেলা কমিটি। বৈঠকে পরিচালন সমিতি তৈরি নিয়ে আলোচনা হবে বলে খবর।
বিজেপির জলপাইগুড়ি সাংগঠনিক জেলায় পাঁচটি পুরসভায় ভোট রয়েছে। জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, মালবাজার, মেখলিগঞ্জ এবং ধূপগুড়ি। গত সপ্তাহে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ জলপাইগুড়িতে এসে পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে জেলার জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে জেলার চার বিধায়ক এবং একজন সাংসদ থাকবেন। প্রতিটি পুরসভার জন্য পাঁচজনের একটি করে পরিচালন কমিটি থাকবে। কে কোথায় ভোটে দাঁড়াবেন সেই কমিটিই প্রস্তাব করবে। এই কমিটি গঠন নিয়েই শুরু হয়েছে এখন দ্বন্দ্ব।
দলেরই একটি সূত্রের দাবি, আজ, রবিবারের মধ্যে কমিটি গড়ার কথা ছিল। যদিও জেলা কমিটি এতদিন কোনও বৈঠক ডাকেনি। নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, বিজেপির জেলা সভাপতির বাড়িতে কয়েকজন নেতাকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সাংসদের শিরীষতলার বাড়িতে এবং শিল্পসমি্তি পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে বৈঠকে সব কমিটির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই নামই জেলা কমিটি আজ বৈঠক করে অনুমোদন করাবে বলে দাবি। ইতিমধ্যে এই অভিযোগ রাজ্য কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। দলের এক পদাধিকারী সঙ্ঘের কার্যকর্তাদের কাছেও অভিযোগ করেছেন। সূত্রের খবর, জেলা কমিটির কয়েকজন আজকের বৈঠক বয়কটও করতে পারেন।
দলের জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী অবশ্য বলেছেন, “রবিবারের বৈঠকে কমিটি তৈরি না হলে সোমবার বৈঠক করে কমিটি তৈরি করে নেওয়া হবে। যাঁরা সক্রিয় কর্মী তাঁদেরই কমিটিতে রাখা হবে। বাড়িতে বসে কমিটি তৈরির প্রশ্নই নেই। তবে যাঁরা ব্যক্তিস্বার্থে সংগঠনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাঁদের কমিটিতে রাখা হবে না।”
দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যেই প্রশ্ন, পুরভোটের প্রস্তুতির কমিটি গড়তেই যেখানে এত দ্বন্দ্ব, সেখানে পরবর্তীকালে কতটা সুষ্ঠু ভাবে বড় কাজ সম্ভব?