মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
নির্বাচনী জনসভা থেকে মা-বোনেদের ভোটকেন্দ্র পাহারার দায়িত্ব দিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যতক্ষণ না ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে ততক্ষণ হাতা-খুন্তি নিয়ে সেখানে পাহারা দেওয়ার কথা বলেছেন মমতা। বুধবার দুপুরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থী শঙ্কর মালাকারের সমর্থনে সভাকরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল নেত্রীর আশঙ্কা, ভোট লুট হতে পারে, কেউ ভয় দেখাতে পারে। তাই মা-বোনেদের কেউ ভয় দেখাতে এলে রান্না ঘরের নানা সামগ্রী নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছেন মমতা। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপির কাজকর্ম, কমিশনের নির্দেশ, প্রস্তুতি নিয়ে ভোটে কারচুপি আশঙ্কার কথা বলে নানা অভিযোগ করতে শুরু করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এদিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘‘মা-বোনেদের একটা দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। ছাত্র-যুবরা পাহারা দেবে ভোট মেশিন আর নির্বাচনী বুথ। মা-বোনেরা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন।’’ মহিলাদের তাঁর পরামর্শ, ভোটে সকাল থেকে নজর রেখে ইভিএম গণনা কেন্দ্রে পৌঁছনো পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। দিল্লির লোকগুলি এসে ভোটে যাতে ছাপ্পা দিতে না পারে, তা দেখতে হবে। কেউ যদি ভয় দেখায় মা-বোনেরা ঘরে যা আছে তা নিয়ে বার হবেন। তিনি বলেন, ‘‘সকলে তো রান্নাবান্না করেন, আর বলার প্রয়োজন নেই।’’
গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ফের ক্ষমতার আসার পিছনে লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ মহিলাদের বিভিন্ন প্রকল্প তৃণমূলকে সাহায্য করেছিল তা এ বার বিরোধীরা বুঝেছেন। এ বারও মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদেরই যে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
তৃণমূল সূত্রের খবর, এ দিন নকশালবাড়ির মঞ্চ থেকে শিলিগুড়ির তিনটি ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রের প্রার্থীদের সহযোগিতা এবং মনোনয়ন সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র দেখার দায়িত্ব গৌতম দেবকে দিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। গৌতম দেব দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন এবং তিনি আইনজীবীও। ফাঁসিদেওয়ার তৃণমূল প্রার্থী রীনা এক্কা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হলেও বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম লড়াই করছেন। শঙ্কর মালাকার দু’বার কংগ্রেস বিধায়ক থাকলেও তৃণমূলের হয়ে প্রথম লড়ছেন। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে রঞ্জন শীলশর্মাও এ বার প্রথম বিধায়ক পদপ্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘গৌতম আমার চিরদিনের চিরসাথী।’’
তৃণমূলের একাংশের আশঙ্কা, বিজেপিকে জেতাতে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃত ভাবে বিরোধীদের মনোনয়ন বাতিল করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়গুলিতে নজর রাখার জন্য নেত্রী শিলিগুড়ির মেয়রকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছেন। এ নিয়ে শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বক্তব্য, ‘‘পুরোটাই দলীয় বিষয়। বাইরে বলার কিছু নেই।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে