উত্তরা দেবীর সঙ্গে ব্রিজরাজ সিংহ। কোচবিহারে। ফাইল চিত্র
প্রয়াত হলেন কোচবিহারের রাজকন্যা তথা কোটার মহারানি উত্তরা দেবীর স্বামী মহারাজা ব্রিজরাজ সিংহ। শনিবার সকালে রাজস্থানের কোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। কয়েকবছর আগে স্ত্রী উত্তরা দেবীর সঙ্গে কোচবিহারে এসেছিলেন কোটার মহারাজা ব্রিজরাজ। যোগ দিয়েছিলেন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানেও। এ দিন রাজকন্যার স্বামী বিয়োগের খবর পেতেই কোচবিহারে শোকের ছায়া নেমে আসে। উত্তরা দেবীর সঙ্গে মহারাজার কোচবিহার সফরের নানা স্মৃতিচারণ করেন অনেকে।
উত্তরা দেবীর বাবা ছিলেন কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের ভাই মহারাজকুমার ইন্দ্রজিৎ নারায়ণ, মা রানি কমলা দেবী। গবেষকদের একাংশ জানান, মহারাজা ব্রিজরাজ সিংহের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৬৪ সালে মুম্বইয়ে তাঁর সঙ্গে উত্তরার বিয়ে হয়। বিয়েতে যোগ দেন কোচবিহারের রাজকন্যা তথা জয়পুরের মহারানি গায়ত্রী দেবী। উত্তরাদেবী গায়ত্রী দেবীর ভাইঝি। মহারাজা ব্রিজরাজ সিংহ ও উত্তরা দেবীর এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছেন। তাঁদের নাম যুবরাজ ইজ্যরাজ সিংহ ও রাজকুমারী ভবানী কুমারী। তিনি বর্ধমানের রাজ পরিবারের যুবরানি। ২০২০ সালে উত্তরা দেবীর সঙ্গে কোচবিহারে এসেছিলেন ভবানীকুমারী। সেই বছরে অবশ্য মহারাজা আসেননি।
‘দ্য কুচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি সাকসেসর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের’ মুখপাত্র কুমার মৃদুল নারায়ণ বলেন, “মহারাজা ব্রিজরাজ সিংহের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে শুনেছি। কয়েক বছর আগে কোচবিহারে এসেছিলেন উত্তরাদেবীর সঙ্গে।”
‘কুচবিহার আর্কাইভের’ সভাপতি ঋষিকল্প পাল বলেন, “২০১৪ সালের ডিসেম্বরে জেনকিন্স স্কুলের সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহারাজা ব্রিজরাজ সিংহ। সে সময়ে কথা হয়েছিল। শনিবার উত্তরা দেবীর মেসেজে দুঃসংবাদ জানতে পারি।” তিনি জানান, মহারাজার আবার কোচবিহারে আসার ইচ্ছে ছিল। কোভিড পরিস্থিতিতে তা হয়নি। কোচবিহারের খাগরাবাড়ির বুড়িরপাটের বাসিন্দা নিরুপম ঘোষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে উত্তরা দেবীর পরিবারের। নিরুপম বলেন, “২০১৪ সালে আমার বাড়িতে মহারাজা সপরিবারে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। নানা গল্পের সুযোগও হয়েছিল।” কোটার মহারাজার মৃত্যুতে এমন নানা স্মৃতিকথা ঘুরছে কোচবিহারের শোকাহত অনেক বাসিন্দার মুখেই।