Bengali Migrant Labour Death

ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে কোচবিহারের পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু, ঝাড়খণ্ডের পর এ বার অসম! খুনের অভিযোগ পরিবারের

মৃতের নাম হিমাঙ্কর পাল (৩৫)। তাঁর বাড়ি কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের কুশরামারি গ্রামে। রবিবার অসমের গোয়ালপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮–১০ বছর ধরে অরুণাচল প্রদেশে রঙের কাজ করতেন হিমাঙ্কর।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৪
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শোরগোল চলছে। ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু কোচবিহারের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। অসমে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় ওই যুবকের দেহ। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, খুন। ওই মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর।

Advertisement

মৃতের নাম হিমাঙ্কর পাল (৩৫)। তাঁর বাড়ি কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ব্লকের কুশরামারি গ্রামে। রবিবার অসমের গোয়ালপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮–১০ বছর ধরে অরুণাচল প্রদেশে রঙের কাজ করতেন হিমাঙ্কর। কিছু দিন আগে বাড়ি ফিরলেও গত বৃহস্পতিবার আবার কাজের সন্ধানে ভিন্‌রাজ্যে রওনা দেন। তবে সেখানে কাজ না পাওয়ায় পর দিন বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময়ে বাবার সঙ্গে শেষ বার ফোনে কথা হয় তাঁর।

মৃতের বাবা নীতীশ পালের দাবি, “ছেলে ফোনে জানিয়েছিল, গাড়ির চালক আমাকে মারছে, টাকাও চাইছে।” পরিবারের তরফে তৎক্ষণাৎ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু কেন ওই চালক হিমাঙ্করকে মারধর করলেন, তা পরিবারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, চালকের মোবাইল থেকেই ওই ফোন করেছিলেন তাঁর ছেলে। এমনটাই দাবি করেন মৃতের বাবা। রবিবার সকালে পরিবারকে পুলিশ ফোন করে জানায়, হিমাঙ্করের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা।

Advertisement

পরিবার সূত্রে খবর, হিমাঙ্কর ছিলেন পরিবারের মেজো ছেলে। কঠোর পরিশ্রম করে বাইরে কাজ করেই সংসার চলত তাঁদের। পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য গাড়ির চালকই দায়ী। তাদের আরও অভিযোগ, ভিন্‌রাজ্যে কাজ করতে গেলে বারবার বাঙালিদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, প্রাণও যাচ্ছে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ আনতে পরিবারের সদস্যেরা অসম রওনা দিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছে মৃতের পরিবার।

খবর পেয়ে মৃতের বাড়ি পৌঁছোন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি চন্দন প্রামানিক-সহ দলের পদাধিকারীরা। চন্দনের অভিযোগ, “বিজেপিশাসিত অসমে বাঙালি বলেই অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে হিমাঙ্করকে। ভিন্‌রাজ্যে একের পর এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু কখনওই মেনে নেওয়া যায় না”।

বিজেপির জেলা সভাপতি উৎপল দাস তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “রাজ্যে চাকরি নেই এই কারণেই বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে কাজের জন্য তাঁদের যেতে হচ্ছে। কেন রাজ্যে কাজ নেই, তা না দেখে বিজেপির বিরুদ্ধে ভ্রান্ত অভিযোগ তুলে রাজনীতির হাওয়া গরম করতে চাইছে তৃণমূল।”

গত ১৬ জানুয়ারি, ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হন বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখ। পরিবারের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়। জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়ার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তা নিয়ে অশান্ত হয় বেলডাঙা। রেল, পথ অবরোধের মাধ্যমে শুরু হ‌ওয়া বিক্ষোভ হিংসার‌ রূপ নেয়। প্রহৃত হন একাধিক সাংবাদিক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement