অসহায়: রায়গঞ্জের কাশীবাটী রায়পুর গ্ৰামে চার জন শ্রমিক তাঁবু খাটিয়ে মাঠে কোয়রান্টিনে। নিজস্ব চিত্র
করোনার ভয়ে পরিবারের অন্য লোকেরাই তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেননি। তা জেনে এলাকার কয়েক জন বাসিন্দাই একটি পুকুরের পাশে ত্রিপল, বাঁশ দিয়ে ছাউনি গড়ে দেন। তার পর থেকে রায়গঞ্জ ব্লকের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুর সংলগ্ন কাশীবাটী সংসদ এলাকার একই পরিবারের চার জন ওই ছাউনিতেই রয়েছেন। তাঁদের খাবারেরও ব্যবস্থা করেছেন এলাকাবাসীর একাংশই।
উত্তর দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধানের বক্তব্য, করোনা মোকাবিলায় বাসিন্দারা সচেতন হয়ে ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা ওই চার জনকে কোয়রান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করে উপযুক্ত কাজ করেছেন।
ছাউনিতে থাকা ওই চার জনের নাম কাজল পূজর, মাধবী পূজর, মেনকা পূজর ও কালামনি পূজর। মাধবী কাজলের স্ত্রী। মেনকা কাজলের বৌদি। কালামনি মেনকার মেয়ে। কাজল জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তাঁরা সুরাতে গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যোগ দেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা ‘শ্রমিক স্পেশ্যাল’ ট্রেনে হাওড়ায় পৌঁছন। পরে বাসে শুক্রবার রাতে তাঁরা রায়গঞ্জে ফেরেন। কাজলের কথায়, ‘‘ওই দিন রাতে বাড়ি ফেরার পরে পরিবারের লোকেরাই করোনার ভয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দেননি। সারা রাত বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে মাঠের গাছের নীচে বসেছিলাম। পরের দিন সকালে এলাকার কয়েক জন পুকুরের পাশে ছাউনি গড়ে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তাঁরাই ছাউনির পাশে আলো ও প্রতি দিন তিন বেলা খাবার ও পানীয় জল দিয়ে যাচ্ছেন।’’
ওই এলাকার বাসিন্দা দিলীপ দাস ও আশিস মজুমদারের বক্তব্য, ‘‘কোয়রান্টিনে থাকাকালীন ১৪ দিন ওই চার জনের যাতে খাবার ও পানীয় জলের অভাব না হয়, সে দিকে আমরা নজর রেখেছি। গুজরাত ফেরত ওই চার জন যাতে ১৪ দিনের আগে বাড়িতে ফিরতে বা এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে না পারেন, সে জন্য ছাউনির চার দিকে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।’’
কাজলের বাবা হরিয়া পূজরের কথায়, ‘‘সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়েই ওঁদের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’’