বধূকে পুড়িয়ে খুনে ধরা পড়েনি কেউই

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মহিলার মৃত্যুর পর চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা অভিযুক্তরা। সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় পুলিশ কোচবিহারের পানিশালায় গেলেও দেখা মেলেনি কারও। চার তৃণমূল নেতা-কর্মীর বাড়িই ছিল তালাবন্ধ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:০১
Share:

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মহিলার মৃত্যুর পর চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা অভিযুক্তরা। সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় পুলিশ কোচবিহারের পানিশালায় গেলেও দেখা মেলেনি কারও। চার তৃণমূল নেতা-কর্মীর বাড়িই ছিল তালাবন্ধ।

Advertisement

রবিবার সকালে ওই গ্রামেরই এক তৃণমূল কর্মী রত্নেশ্বর বর্মনের বাড়ির উঠোন থেকে যমুনা রায় (৩৫) নামে তাঁর প্রতিবেশী এক মহিলার অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, ওই মহিলাকে এলাকারই চার তৃণমূল কর্মী পুড়িয়ে খুন করেছে। মৃত্যুর আগে ওই চারজনের নাম তিনি জানিয়ে গিয়েছেন। বিষয়টি এক যুবকের মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, যেখানে মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার থেকে পঞ্চাশ মিটার দূরেই এক অভিযুক্তের বাড়ি। অন্যদের বাড়িও ওই গ্রামেই। এদের মধ্যে একজন তৃণমূলের পানিশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রমীলা রায়ের স্বামী বিনয় রায়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তদের সঙ্গে মৃতার স্বামী মৃত্যুঞ্জয়বাবুর গণ্ডগোল ছিল। মৃত্যুঞ্জয়বাবু গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে একবার মৃত্যুঞ্জয়বাবুকে মারধর ও চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তা নিয়ে তাঁর স্ত্রীও প্রতিবাদ করেছিল। তাতেই তাঁরা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মৃতার স্বামী তাঁর আত্মীয়রা।

Advertisement

তৃণমূল সমর্থকরা অবশ্য দাবি করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁরা কখনও কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁরা পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যদি এমন অপরাধ করতেন, তা হলে তো অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে দেহ ফেলে দেওয়ার ছক কষতেন। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রমীলাদেবী অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। ওই এলাকার তৃণমূল নেতা আমিনুর রহমান বলেন, “আসলে ঋণে জর্জরিত ছিলেন ওই পরিবার। তা থেকেই কোনও ঘটনা হতে পারে। রাজনৈতিক কারণে আমাদের দলের কর্মীদের নাম দেওয়া হয়েছে।” কোচবিহারের পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবাল বলেন, “অভিযুক্তরা পলাতক। তাঁদের খোঁজ চলছে।”

এ দিন পাকুড়তলা গিয়ে দেখা যায়, মৃতার স্বামী ও তাঁর আত্মীয়রা প্রত্যেকেই আতঙ্কিত। এক আত্মীয়া বলেন, “বার বার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে এমন ঘটবে ভাবিনি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement