হেলমেট নেই কারও। ঝুঁকি নিয়েই মোটরবাইকে সওয়ার। কোচবিহারে শনিবার। ছবি: হিমাংশুরঞ্জন দেব।
চাহিদা দ্বিগুণ
কড়াকড়িতে দ্বিগুণ বেড়েছে হেলমেট বিক্রি। বাইক আরোহীদের একাংশ দাবি করলেন, পরতেই যখন হবে, তখন হেলমেট হবে পছন্দের রঙের। কিন্তু চাহিদা বেশি, তাই পছন্দের রং অমিল। মারুগঞ্জের বাসিন্দা সুব্রত দাস বলেন, “নিজের বাজেটের মধ্যে কালো রঙের ফুল হেলমেট কিনতে চেয়েছিলাম। কয়েক দোকান ঘুরেও তা পাইনি। বাধ্য হয়েই লাল রঙের হেলমেট কনতে হয়েছে।” ব্যবসায়ী দেবাশিস দাস বলেন, “চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।” ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, চাহিদা মতো জোগান দেওয়া যাবে তো? দিল্লি থেকে হেলমেট সরবরাহ হয় জেলায়। এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘অর্ডার দিলেও হেলমেট আসতে অনেকটা সময় লাগে। এমন চাহিদা জারি থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকে ঘাটতি শুরু হবে।’’
শুধুই নিয়মরক্ষা
বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু সবই যেন নিয়ম রক্ষা। তাই আদৌও কী সুরক্ষিত বাইক আরোহীর জীবন—উঠেছে সে প্রশ্নই। ব্যবসায়ীদেরও অভিযোগ, স্বীকৃত আইএসআই মার্ক নেই এমন হেলমেট কেনার দিকেই আগ্রহ বেশি দেখাচ্ছেন বাইক আরোহীরা। প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন জায়গায় হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চলছে৷ হেলমেট ছাড়া কেউ বাইক চালালেই তাকে জরিমানা দিতে হচ্ছে৷ জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে হেলমেটের দোকানগুলিতে ভিড় বাড়ছে৷ ভিন রাজ্য থেকেও কেউ কেউ হেলমেট নিয়ে শহরের ফুটপাতে বসছেন৷ শহরের থানা রোড এলাকার হেলমেট বিক্রেতা দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “বেশিরভাগ ক্রেতার কথা শুনেই মনে হচ্ছে, যেন নিজের নিরাপত্তার জন্য নয়, জরিমানা এড়াতেই হেলমেটটা কিনছেন।’’ ফুটপাতে পসরা নিয়ে বসা বিক্রেতাদের হেলমেটে আইএসআই ছাপ দূর অস্ত, হেলমেটের ফিতেও মজবুত নয়। তবে জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মুক্তা আর্য জানিয়েছেন, বাজারে যে ধরনের হেলমেট বিক্রি হচ্ছে, তা কতটা মজবুত তা যাচাই করতে বিশেষজ্ঞদের সেগুলি পরীক্ষা করে দেখতে বলা হবে৷
সুরক্ষায় নজর নেই
অন্য জেলার থেকে পিছিয়ে শুরু করেছে মালদহ। তবু পুলিশের কড়াকড়ি ধরপাকড়ে হেলমেট কেনার ভিড় জেলা জুড়েই। মালদহের বেশিরভাগ পাম্পগুলিতে ‘নো হেলমেট নো পেট্রোল’ কার্যকর হয়েছে। তবে নিয়ম রক্ষার প্রবণতা রয়েছে মালদহেও। স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী রতন সাহা বলেন, ‘‘আগে দিনে গড়ে ১৫-২০টা হেলমেট বিক্রি করতাম, এখন ৪০-৫০টা করছি। আইএসআই মার্ক দেওয়া হেলমেটের দু-তিনটের বেশি বিক্রি নেই।’’
শোরুমেও খোঁজ
রায়গঞ্জের শিলিগুড়িমোড়, সুপারমার্কেট ও মহাত্মা গাঁধী রোডের বিভিন্ন মোটরপার্টসের দোকানে হেলমেট কেনার জন্য বাইক চালকেরা ভিড় করছেন। ৩৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের হেলমেট বিক্রি হচ্ছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা দামের বিভিন্ন হেলমেট। সুপারমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মহম্মদ আলম জানান, ‘‘এত দিন প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১৫টি হেলমেট বিক্রি হত। গত চার দিন ধরে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি করে হেলমেট বিক্রি হচ্ছে।’’ রায়গঞ্জের বিভিন্ন মোটরবাইক শোরুমগুলিতেও হেলমেট বিক্রি বেড়েছে। সুদর্শনপুর এলাকার একটি বাইকের শোরুমের বিক্রয় প্রতিনিধি বাবু দাস বলেন, ‘‘আগে হেলমেট কেনার ঝোঁকই ছিল না। এখন সকলে জানতে চাইছেন, বাইকের সঙ্গে হেলমেট আছে তো!’’
নিয়ম ভাঙা
শহরের কোনও পেট্রোল পাম্পেই হেলমেট ছাড়া তেল মিলছে না। হিলকার্ট রোড, সেবক রোড, বিধান রোডের মতো শহরের গলির রাস্তাতেও বিনা হেলমেটের বাইক আরোহীদের ধরতে চলছে তল্লাশি। শহরের রাস্তায় তাই হেলমেট পরার প্রবণতা বাড়লেও, পাশের জাতীয় সড়ক যেন অন্য নিয়মে চলছে। দার্জিলিং মোড় ছেড়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে বাইক পৌঁছলেই আরোহীদের অনেকেই হেলমেট ঝুলিয়ে নিচ্ছেন বাইকের হাতলে। শনিবার মাটিগাড়া, বাগডোগরার রাস্তায় হাতে গোণা কয়েকজন যুবককে হেলমেট পরে রাস্তায় দেখা গিয়েছে।
কেউ আবার পেট্রোল পাম্প থেকে বের হয়েই হেলমেট খুলে নিলেন। জাতীয় সড়কের কোথাও পুলিশি নজরদারিও এ দিন অন্তত চোখে পড়েনি। শিলিগুড়িতে কড়াকড়ি হলেও পাশের মাটিগাড়া, বাগডোগরায় কেন হবে না, তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তাতে কাজ হয় কি না সেটাই দেখার।