‘নো হেলমেট, নো পেট্রোল’- রবিবার দুপুর ৩টায় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকা জারির ঘণ্টা পাঁচেকের মধ্যে পাম্পে ঝামেলা, ভাঙচুর। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় হেলমেট না পরে তেল চাইতে এসে না শুনেই তিনবাতি মোড়ের একটি পাম্পে ভাঙচুর চালায় তিন যুবক। ঘটনাস্থল থেকে এক জনকে ধরার পর রাতেই অবশ্য বাকি দু’জন ধরা পড়ে। রাতেই পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের কাছে আরও নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান। তার পরেই ওই নির্দেশিকা নিয়ে আরও কড়াকড়ির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতিটি পাম্পের সিসিটিভি ঠিকঠাক চলছে কি না তা খতিয়ে দেখা ছাড়াও কমিশনারেটের সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী ও স্পেশাল ব্রাঞ্চকে পাম্পগুলিতে দিনভর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানাগুলিকেও নজরদারি ভ্যানকে পাম্পের আশেপাশে সারাদিন নিয়ম করে ঘোরানোর কথা বলা হয়েছে। কমিশনারেট এলাকায় থাকা ৩৬টি পাম্পে সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা অবধি বিশেষ নজরদারি চলবে। এর পরেও যে পাম্পগুলি খোলা থাকে, সেখানেও নজর রাখার জন্য থানাকে আলাদা করে বলা হয়েছে। তেমনিই, এ বার থেকে কাউকে ওই আইন ভাঙার অভিযোগে ধরা হলে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলাও করার কথা পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে।
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা বলেন, ‘‘পুরোটাই বাসিন্দাদের সচেতনতার বিষয়। আমরা সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হেলমেট পড়ার মতো সামান্য একটা আইন মানার কথা বলছি। চালকেরা তা করলে ভাল। নইলে তেল তো পাবেনই না উল্টে ধরা পড়লে আমরা মামলাও করে দেব।’’ কমিশনার জানান, তিনবাতি এলাকায় অভিযুক্তরা মদ্যপ ছিল বলে শুনেছি। তেল না পেয়ে গোলমাল শুরু করে। এই ধরনের ঘটনা আর বরদাস্থ করা হবে না। সাদা পোশাক-সহ কমিশনারের নানা ইউনিটের অফিসারদের নজরদারির কথা বলা হয়েছে। চালকরা তো বটেই, পাম্প মালিক ও কর্মীরাও আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নর্থ বেঙ্গল পেট্রোল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। সংগঠনের সভাপতি শ্যামল পাল চৌধুরী জানান, রবিবার রাতে ঘটনার পর আমরা ওই পেট্রোল পাম্পে গিয়েছিলাম। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা খুশি। তবে বাড়তি নজরদারির বিষয়টি রাতেই পুলিশকে বলা হয়েছে। আমাদের সিসিটিভি তো রয়েছেই, এ ছাড়া নানা ভাবে পুলিশ কর্মীরা দিনভর পাম্পে নজর রাখবেন বলে কমিশনারেট থেকে জানানো হয়েছে। পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা জানান, রবিবারের পর থেকে অনেকেই হেলমেট ছাড়া এসে তেল চাইছেন। কেউ না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় নানা কটূ মন্তব্যও করছেন। বিশেষ করে রাতের দিকে বাইক আরোহী, গাড়ি নিয়ে অনেকেই আসেন। কথাবার্তায় কেউ কেউ মদ্যপ থাকে বোঝাই যায়। সন্ধ্যার পর পুলিশের নজরদারিটা একটু বেশি করা দরকার।
কমিশনারেটের অফিসারেরা জানিয়েছেন, গত শনিবার নির্দেশ জারির আগের দিন ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়, নানা এলাকা জুড়ে ছশোর মতো গাড়িকে নানা মামলায় জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাইকের সংখ্যাই প্রায় তিনশো। জরিমানা আদায় হয়েছে, ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ১০০ টাকাও। নো হেলমেট, নো পেট্রোলের ক্ষেত্রে শুধু পাম্পে নজরদারিতেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাম্প লাগোয়া এলাকায় নিয়মিত অভিযান হবে। সেখানে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা হবে।
গত ২০১৫ সালে কমিশনারেট এলাকায় ৮৩,১৩১টি গাড়ি থেকে জরিমানা আদায় করে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। শিলিগুড়ি শহরে প্রতি বছর গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু পুলিশ কর্মীর সংখ্যা তেমন বাড়েনি। এতে বাড়ছে আইন ভাঙার প্রবণতাও। ২০০৫ সালে শিলিগুড়িতে গাড়ির সংখ্যা ছিল ৪৩,৯৭৩টি। দশ বছরে তা দাঁড়িয়েছে, ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৮৮টি-তে।