—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের কারণে এ রাজ্যে অনেকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ বার বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের সময় কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিবারের লোকজনের বচসা চলাকালীন এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিধানসভা এলাকার মাড়াইকুড়া পঞ্চায়েতের ভিটি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম তোফিজান বিবি (৭৭)। জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বিবেক কুমার বলেন, “ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে আমরা জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ছাব্বিশের নির্বাচন পর্বে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে এ দিন মাড়াইকুড়া পঞ্চায়েতের ভিটি বুথ এলাকায় বয়স্ক ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু করেন কর্মীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে ছিল। তোফিজানের স্বামী কালু শেখের বাড়িতেও ভোট নিতে যান কমিশনের প্রতিনিধিরা। আংশিক দৃষ্টিহীন কালু শেখের বয়স ৮৬। তোফিজান নিজেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন।
অভিযোগ, কালুর ভোট দেওয়ার সময় তাঁর মেয়ে ও ছেলে উপস্থিত থাকতে চাইলে তা মানা হয়নি। কমিশনের প্রতিনিধিরা জানান, পরিবারের কাউকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া যায় না নির্দেশিকা অনুযায়ী। এই নিয়ে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে বিএলও-সহ কমিশনের প্রতিনিধিদের বচসা হয়। তখনই তোফিজান অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। রায়গঞ্জ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁর আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন। বৃদ্ধার দেহের ময়না-তদন্ত হয়েছে ওই হাসপাতালেই।
ওই ঘটনার পর মৃতের পরিজন দীর্ঘ ক্ষণ কমিশনের প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। মৃতের ছেলে আব্দুল রহিম পুলিশের কাছে কমিশনের প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর জেরে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করেন। খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বচসায় জড়ান রায়গঞ্জের তৃণমূলের প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীও।
মৃতার মেয়ে জাহিদা খাতুনের দাবি, তাঁর বাবাকে ভোট দিতে সহযোগিতা করার জন্য তাঁরা ভোট নেওয়ার ঘরে থাকবেন বলে অনুরোধ করেছিলেন। জাহিদা বলেন, “বিএলও-সহ কমিশনের প্রতিনিধিরা আমাকে ও দাদাকে ঘর থেকে বার করে দেন। আমরা প্রতিবাদ করলে গ্রেফতারির ভয় দেখানো হয়। বচসা চলাকালীন মা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মারা যান।” কৃষ্ণ কল্যাণীর অভিযোগ, “কমিশনের প্রতিনিধিরা কালুবাবুকে না জানিয়ে তাঁর ভোট নিতে গিয়েছিলেন। আংশিক দৃষ্টিহীন ওই বৃদ্ধকে ভোট দেওয়ানোর নাম করে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।”
যদিও বিএলও অলোক শূর রায়ের দাবি, তাঁরা কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করেছেন। রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পালের পাল্টা দাবি, “জেলা পুলিশই কমিশনের প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ানকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভোট নিতে গিয়েছিল। পুলিশের ভয়েই ওই বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন। বাড়িতে গিয়ে বিজেপি-কে ভোট দেওয়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তৃণমূল এ নিয়ে রাজনীতি করছে।” জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “জেলাশাসক বিষয়টি দেখছেন।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে