উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। ফাইল চিত্র।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে এমআরআই করাতে দালাল চক্রের রমরমা বাড়ছে বলে অভিযোগ রোগী এবং তার আত্মীয়দের। এমআরআই পরীক্ষা করাতে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন এবং তারপর তারিখ পেতে অপেক্ষা, এই দুই যাঁতাকলে পড়ে বিপাকে রোগীরা। সেখানে দালালেরা সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ। বুধবার হাসপাতালের পিপিপি মডেলে চলা এমআরআই কেন্দ্রে পরীক্ষা করাতে গিয়ে রোগীরা এমন অভিযোগ তুলছেন। হাসপাতালে যে পরীক্ষা বিনামূল্যে হওয়ার কথা, দালালদের খপ্পরে পড়ে বাইরে তাই সাত-আট হাজার টাকা খরচ করতে হয় বলে অভিযোগ। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে পিপিপি মডেলে একটি এমআরআই কেন্দ্র চলে। আরেকটি হাসপাতালের নিজস্ব এমআরআই কেন্দ্র রয়েছে সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকে। দু’টি ক্ষেত্রে এমআরআই করাতে চিকিৎসকেরা আলাদা ধরনের ফর্ম লিখে সই করে দেন। সুপার স্পেশ্যালিটির এমআরআই কেন্দ্রে পরীক্ষা করাতে যে ফর্ম, লাগে তা চিকিৎসকদের বহির্বিভাগে রাখা থাকে। চিকিৎসক তাতে লিখে দেন। অভিযোগ, সেখানে তারিখ পেতে এক মাস অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু পিপিপি মডেলে পরীক্ষা করাতে চিকিৎসক পরামর্শ দিলে বহির্বিভাগ থেকে অনেকটা দূরে এমআরআই কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম এনে দিতে হয় রোগীদের। তার পর চিকিৎসক ফর্মে লিখে সই করে দিলে ফের এমআরআই কেন্দ্রে যেতে হয় তারিখ পেতে। সেখানেও দুই-এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ। অন্যান্য জেলা, গ্রাম থেকে আসা রোগী, তাঁর বাড়ির লোকেরা তা করতে গিয়ে দালালের খপ্পড়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ। বাড়ছে ক্ষোভও।
ইসলামপুর থেকে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন নবনীতা দাস। তিনি বলেন, ‘‘তিন বার ঘুরে ফর্ম সই করাতে হয়েছে। এমআরআই কর্মীদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা স্পষ্ট করে বলেন না। তার মধ্যে দালালদের উৎপাত তো আছেই।’’ ডোড়পাখরি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ নজিমুদ্দিনের অভিযোগ, ‘‘এখানে ডেট পেতে সমস্যা। দালালেরা এক দিনে করানোর আশ্বাস দিয়ে আট হাজার টাকা চায়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। হাসপাতাল চত্বরে প্রচুর দালাল ঘুরছে।’’ জ্যোতিনগরের বাসিন্দা আরতি দত্ত সরকার বলেন, ‘‘পরীক্ষার ডেট পেতে ১০ দিন লেগেছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পেতেও সপ্তাহ গড়াল।’’
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তথা সুপার সঞ্জয় মল্লিক বলেন, ‘‘পিপিপি মডেলের এমআরআই কেন্দ্রের ফর্ম বহির্বিভাগে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। তবে ডেট পেতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। দালালদের এড়াতে সব সময় বলা হয়।’’ হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম মেডিক্যল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারিখ নিয়ে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য হাসপাতালের যন্ত্রে এমআরআই পরীক্ষা প্রতিদিন বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তার পরেও রোজ ১৫-২০টির বেশি এমআরআই হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে