দীপার তালুকে উন্নয়নের শপথ গ্রহণ রব্বানির

দুপুর তখন প্রায় পৌনে একটা। সবে বৃষ্টি থেমেছে। বিপ্রিত মোড়ের একটি ছোট মিস্টির দোকানে গমগম করে চলছে টেলিভিশন চ্যানেল। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখতে উপছে পড়েছে ভিড়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০১৬ ০৩:১৯
Share:

রব্বানি শপথ নেওয়ার পর উচ্ছ্বাস গোয়ালপোখরে।—নিজস্ব চিত্র

দুপুর তখন প্রায় পৌনে একটা। সবে বৃষ্টি থেমেছে। বিপ্রিত মোড়ের একটি ছোট মিস্টির দোকানে গমগম করে চলছে টেলিভিশন চ্যানেল। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখতে উপছে পড়েছে ভিড়।

Advertisement

গোলাম রব্বানির শপথ নেওয়ার মুহূর্তে পলক পড়েনি গোয়ালপোখরের। তারপরেই শুরু হয়ে যায় উৎসব। পটকা ফাটানো, আবির খেলা বাদ যায়নি কিছুই। তাঁদের বিধায়ক, মন্ত্রী হওয়ায় পিছিয়ে পড়া ব্লকের কলঙ্কটা কেটে যাবে এমনটাই আশা এলাকার মানুষের।

গোলাম রব্বানির বাড়িতেও ছিল একই রকম উৎসবের মেজাজ। এলাকার মানুষজন ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর বাড়িতে। সেখানে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়েই টিভিতে বসে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখেন তাঁর ভাই ও পরিবারের লোকজন। অনুষ্ঠান চলাকালীন টিভি থেকে ছবি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে পোষ্ট করতে দেখা যায় কর্মীদের।

Advertisement

তখন জানা ছিল না কোন দফতর পাচ্ছেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। পরে অবশ্য তাঁকে পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বলে ঘোষণা করা হয়। রব্বানির ভাই তথা গোয়ালপোখর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ‘‘এই এলাকা থেকে কেউ এখনও পর্যন্ত মন্ত্রী হননি. এলাকার উন্নয়ন করাই মূল লক্ষ্য থাকবে দাদার। পিছিয়ে পড়ার কলঙ্ক কিছুটা হলেও ঘুচবে।’’

২০১১ সালে কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সির অনুগামী ছিলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তথা গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি। পরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর খাস তালুক বলেই পরিচিত গোয়ালপোখরের, কংগ্রেস নেতা জোটের প্রার্থী আফজল হুসেনের সঙ্গে ছিল তাঁর লড়াই। আফজল হুসেন পেয়েছেন ৫৭,১২১ টি ভোট। ৬৪,৮৬৯ ভোট পেয়েছেন গোলাম রব্বানি। দীপার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় পাওয়াতেই মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে এলাকার মানুষের বক্তব্য, হাতের কাছে একজন মন্ত্রী পেয়েছেন তারা. তাঁর কাছেই এলাকায় কলেজ তৈরি, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়ন, ইত্যাদি দাবি রাখা হবে। গোয়ালপোখর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তপন কুমার সিংহ বলেন, ‘‘এলাকার মানুষের কাছে গর্বের দিন। রব্বানি সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন। দিদি তাঁর মাধ্যমেই এলাকার উন্নয়ন করবেন।’’

আর রব্বানি নিজে বলছেন, ‘‘উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। এলাকার যা দাবি রয়েছে সেই হিসেবে উন্নয়ন করব। দিদিও চান এলাকার উন্নয়ন করতে। তাঁর হাত ধরেই এলাকার উন্নয়ন করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement