West Bengal Elections 2026

টিকিট মেলেনি, অভিমানী রবীন্দ্রনাথ

এ বারে রবীন্দ্রনাথ কি ভোটে দাঁড়াবেন, না অন্য কিছু ভাবছেন— তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে জেলায়। বুধবার সকাল থেকে পুরনো তৃণমূল কর্মীরা যান তাঁর বাড়িতে।

নমিতেশ ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৭
Share:

প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ফাইল চিত্র।

এক সময় জেলা রাজনীতিতে তৃণমূলের শেষ কথা ছিলেন তিনিই। এ বারে সেই প্রবীণ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে পুরনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে। এ বারে রবীন্দ্রনাথ কি ভোটে দাঁড়াবেন, না অন্য কিছু ভাবছেন— তা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে জেলায়। বুধবার সকাল থেকে পুরনো তৃণমূল কর্মীরা যান তাঁর বাড়িতে।

কার্যত ঘরবন্দি রবীন্দ্রনাথ বললেন, “রাজনীতি সবসময় বা সারাজীবন করতে হবে এমন নয়। এটা একসময় সমাপ্ত করতে হয়। সুতরাং এই বিষয়ে আমার কোনও আফসোস নেই। দল সব ঠিক করেছে।” তিনি নির্বাচনের ময়দানে থাকবেন কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথের জবাব, “টিকিট পাইনি। লড়াই করব কী করে!”

কিছুটা ক্লান্ত, কিছুটা অভিমানী রবীন্দ্রনাথ মিনিট কয়েক চুপ থেকে বললেন, “আসলে আমি বড় রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছি।” কারা চক্রান্ত করল তা অবশ্য খোলসা করেননি তিনি। তা হলে রাজনৈতিক জীবনে তিনি ইতি টানছেন কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, “সময় কথা বলবে।”

দলের রবীন্দ্রনাথের সব থেকে কাছের বলে পরিচিত প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, “দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যাঁদের টিকিট দেওয়া হয়নি, তাঁদের অন্য দায়িত্ব দেবেন তিনি। আশা করছি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।” দলের যাঁদের সঙ্গে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে রবীন্দ্রনাথের, তাঁদের এক জন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, অন্য জন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। কেউই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুর দিন থেকেই তৃণমূলে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। প্রায় বাইশ বছর তিনি জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। দু’বার নাটাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক। পাঁচ বছর মন্ত্রীও ছিলেন। ২০১৯ সালে কোচবিহার লোকসভা আসন তৃণমূলে পরাজয়ে রবীন্দ্রনাথকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেও ২০২১ সালে নাটাবাড়ি থেকেই রবীন্দ্রনাথকে টিকিট দেয় তৃণমূল। জিততে পারেননি। পরে দলের টিকিটে পুরসভা নির্বাচনে জিতে পুরপ্রধান হন। মাস কয়েক আগে সে দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এ বারে রবীন্দ্রনাথ টিকিট না পাওয়ায় নির্বাচনের ফলে দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পার্থকে পাশে বসিয়ে অবশ্য দলের সভাপতি কর্মীদের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছেন, ‘‘এখানে আমি অভিজিৎ বা পার্থ কেউ নই। এখানে তৃণমূল লড়াই করছে। তৃণমূলকে জয়ী করতে হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন