দ্বন্দ্ব ভুলে এক মঞ্চে

রবিবার মালদহ টাউন হলে অনুষ্ঠিত হওয়া অঙ্গনওয়াড়ি, সহয়িকাদের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনের মঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুবাবু ও সাবিত্রীদেবী এবং মহিলা তৃণমূল নেত্রী তথা কাউন্সিলর চৈতালি ঘোষ সরকার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

মালদহ শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০১৭ ০২:৫১
Share:

এক সঙ্গে সাবিত্রী-কৃষ্ণেন্দু। নিজস্ব চিত্র।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মালদহ সফরের পরেই ছবিটা বদলে গিয়েছে।

Advertisement

এত দিন, এক জন মঞ্চে ঢুকতেই বেরিয়ে যেতেন অপর জন। এক সঙ্গে যদি কখনও মঞ্চে হাজির থাকেন, পাশাপাশি বসতেন না। এমনকী, সরকারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে কাজিয়া করে বির্তকে জড়িয়েছিলেন মালদহের তৃণমূলের প্রথম সারির দুই নেতা নেত্রী সাবিত্রী মিত্র ও কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। মমতা সম্প্রতি এই জেলায় এসেছিলেন। তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে মালদহ স্টেশনে এই দু’জনকেই পাশাপাশি দেখা যায়। তারপর থেকেই দু’জনের সম্পর্ক অনেক বদলে গিয়েছে। দু’জনকে পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে। এমনই মত তৃণমূলেরই একাংশের।

রবিবার মালদহ টাউন হলে অনুষ্ঠিত হওয়া অঙ্গনওয়াড়ি, সহয়িকাদের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনের মঞ্চে হাজির ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন দুই মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুবাবু ও সাবিত্রীদেবী এবং মহিলা তৃণমূল নেত্রী তথা কাউন্সিলর চৈতালি ঘোষ সরকার। তিন জনই পাশাপাশি বসে নিজেদের মধ্যে কথাও বলেন। একই সঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন জেলার এই তিন নেতা নেত্রী।

Advertisement

মালদহের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয় রাজনৈতিক মহলে বহুল চর্চিত। বিধানসভা ভোটের মাস ছয়েক আগে প্রকাশ্যে কাজিয়ায় জড়ান কৃষ্ণেন্দুবাবু ও সাবিত্রীদেবী। যার প্রভাব পড়ে বিধানসভা নির্বাচনে। মালহদের ১২টি আসনেই হেরে যান তৃণমূল প্রার্থীরা। কৃষ্ণেন্দুবাবু, সাবিত্রীদেবীও হেরে যান।

তারপর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মালদহে তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ক়ড়া হন। দলীয় বৈঠকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কোনও মতে বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেত্রী। আর এরপর থেকেই ছবিটা বদলে গিয়েছে মালদহে। তারপর থেকেই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে এক সঙ্গে দেখা গিয়েছে কৃষ্ণেন্দু-সাবিত্রীকে।

এ দিন কৃষ্ণেন্দুবাবু, সাবিত্রীদেবী ও চৈতালীদেবীরা এক সুরে সুর মিলিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিধানসভা ভোটের হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে পঞ্চায়েতে এগিয়ে যেতে হবে। এখন থেকেই সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্যের উন্নয়নমুলক কাজের প্রচার করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে রাজ্যের মতো মালদহেও তৃণমূলকে জেতাতে হবে। তৃণমূলের একাংশ নেতৃত্ব বলেন, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব করে বিধানসভায় হেরে রাজ্য নেতৃত্বের বিষ নজরে রয়েছেন তাঁরা, তাই পঞ্চায়েত ভোটে এক সঙ্গে হয়ে সেই সুনাম ফেরাতে তৎপর তিন শিবিরের এই নেতা নেত্রীরা। যদিও কৃষ্ণেন্দুবাবু, সাবিত্রীদেবী ও চৈতালীদেবীর বক্তব্য, তাঁরা দলের সৈনিক। সেই হিসেবেই তাঁরা কাজ করছি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন