মহাদেবপুরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শিলিগুড়িগামী ধানের ট্রাক । নিজস্ব চিত্র।
একই দিনে পৃথক তিনটি পথ দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকালে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাঙ্গার এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। সেখানে একটি ট্রাক একটি কন্টেনারের পিছনে ধাক্কা মেরে একটি দোকানের একাংশে ঢুকে পড়ে। মৃত্যু হয়েছে ওই ট্রাকের খালাসি ও দুই যাত্রীর। পরের দু’টি দুর্ঘটনা ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার রূপাহারের মহাদেবপুর এলাকার ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। সেখানে একটি ট্রাকের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে একটি ডাম্পার। ডাম্পারের চালক মারা যান। কাছেই একটি ট্রেলার একটি অ্যাম্বুল্যান্সের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে। অ্যাম্বুল্যান্সটি ছিটকে একটি টোটো ও একাধিক পথচারীকে ধাক্কা মারে। মৃত্যু হয় অ্যাম্বুল্যান্সের এক কর্মী ও দুই পথচারীর। এই দু’টি দুর্ঘটনায় রায়গঞ্জ মেডিক্যালে জখম অবস্থায় ছয় জন চিকিৎসাধীন।
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার কুলদীপ সুরেশ সোনওয়ানে বলেন, “সব ক’টি দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, বাঙ্গারের দুর্ঘটনায় মৃতদের নাম ইসমাইল জমাদার (২৫) ও শঙ্কর রায় (২৮)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা ইসমাইল ওই ট্রাকের খালাসি ছিলেন। কোচবিহারের বাসিন্দা শঙ্কর পেশায় শ্রমিক ছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় মৃত এক যাত্রীর পরিচয় জানা যায়নি।
মহাদেবপুরে দুর্ঘটনায় মৃতদের নাম মাঞ্জারুল ইসলাম (৪৫), সুবল সরকার (৪৬) ও নির্মলচন্দ্র রায় (৫১)। মাঞ্জারুলের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে। সুবলের বাড়ি গাজলের মিরজাতপুরে। নির্মল মহাদেবপুরের সরাইয়ের বাসিন্দা। মৃত এক পথচারীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানায়, মহাদেবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিলিগুড়িগামী ধান বোঝাই একটি ট্রাকের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে ওই ডাম্পার। দুর্ঘটনায় ডাম্পারের চালক মাঞ্জারুল মারা যান। ধান বোঝাই ট্রাকটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গাজল টোলগেট থেকে ঘটনাস্থলে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ওই অ্যাম্বুল্যান্স যায়। তত ক্ষণে অন্য অ্যাম্বুল্যান্সে ডাম্পারের চালকের দেহ রায়গঞ্জ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বুল্যান্সটি জাতীয় সড়কে বাঁক ঘুরে ফেরার পথে কিছুটা দূরে সেটির পিছনে ট্রেলার ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার জেরে অ্যাম্বুল্যান্স ছিটকে একটি টোটো ও বেশ কয়েক জন পথচারীকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মী সুবল ও অজ্ঞাতপরিচয় পথচারী মারা যান। মেডিক্যালে নির্মলের মৃত্যু হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে