অনলাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি শিলিগুড়ির কলেজে

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের নিয়ম মেনে অনলাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল শিলিগুড়ির কলেজগুলি। তবে ছাত্রছাত্রী ভর্তির আগে কলেজের তরফে বিষয় নিবার্চন করে দেওয়া বা কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি কী হবে তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে শিলিগুড়ি কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান। অনেকে মনে করছেন এই ব্যবস্থায় কলেজে ডেকে কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ থাকছে না। পুরোটাই অন লাইনে হচ্ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০১৫ ০২:১৯
Share:

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের নিয়ম মেনে অনলাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল শিলিগুড়ির কলেজগুলি। তবে ছাত্রছাত্রী ভর্তির আগে কলেজের তরফে বিষয় নিবার্চন করে দেওয়া বা কাউন্সেলিংয়ের বিষয়টি কী হবে তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে শিলিগুড়ি কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান। অনেকে মনে করছেন এই ব্যবস্থায় কলেজে ডেকে কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ থাকছে না। পুরোটাই অন লাইনে হচ্ছে। বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশের তরফে অনলাইন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানানো হলেও প্রথম বছর প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে পুরনো ব্যবস্থাও পাশাপাশি বহাল রাখার আবেদন করা হয়েছে। সাধারণ মানের পড়ুয়াদের কথা ভেবে কলেজগুলিতে ‘হেল্প ডেস্ক’ করার দাবি উঠেছে।

Advertisement

৩০ মে শনিবারের মধ্যেই কলেজগুলিকে অন লাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সচিব নূপুর দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘শিক্ষা দফতরের নির্দেশ মেনেই অন লাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিতে কলেজগুলিকে বলা হয়েছে। সেই মতোই ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে কাউন্সিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের মতো করে করবেন। সে ব্যাপারে অতীতেও বিশ্ববিদ্যালয় মাথা গলায়নি। এ বারও করবে না।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের তরফে কলেজগুলিকে আগেই জানানো হয়েছিল ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩০ মে’র মধ্যে অন লাইনে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিতে। ৪-১০ জুনের মধ্যে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে। ১৩ জুনের মধ্যে কলেজগুলির তরফে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই মতো ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভর্তির শেষ সময় সীমা ১০ অগস্ট। তবে জুলাই মাস শেষের আগেই ক্লাস শুরু করতে হবে।

Advertisement

শিলিগুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ উজ্জ্বল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘‘অনলাইনে ভর্তি হবে। তবে আমাদের মতো কলেজের ক্ষেত্রে ভর্তির আগে কাউন্সেলিংয়ের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। না হলে ভাল ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তা কী ভাবে হবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলব।’’ তাঁদের দাবি, স্নাতক স্তরে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে। আবার পরিকাঠামো অনুয়ায়ী কলেজে কোনও বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ছাত্রছাত্রী নেওয়া যাবে না। বাকিদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আলোচনা করে অন্য বিষয় নেওয়ার জন্য বলা হবে।

ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি রোনাল্ড দে বলেন, ‘‘অন লাইন ব্যবস্থাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের কথা ভেবে প্রথম বছর অন লাইনের পাশাপাশি আগের পদ্ধতিও বিকল্প হিসাবে রাখা উচিত। সেই সঙ্গে কলেজে পড়ুয়াদের ডেকে সামনাসামনি কাউন্সেলিং ব্যবস্থা করতে হবে।’’ আলাদা ভাবে হলেও একই সুরে এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সৌরভ দাস বলেন, ‘‘ভর্তির্ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখতে অন লাইন ব্যবস্থা জরুরি। তবে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ ছেলেমেয়েদের ওই ব্যবস্থায় সড়গড় হতে সময় লাগবে। তাই দুই এক বছর অন লাইনের সঙ্গে পুরনো নিয়মও চালু রাখলে ভাল হয়।’’

তাঁরা কলেজগুলিতে কর্তৃপক্ষের তরফে হেল্প ডেস্ক চালুর দাবিও করেছেন। কেন না অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় কম্পিউটার ব্যবস্থা নেই। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় বলেন, ‘‘ভর্তির ব্যাপারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং পড়ুয়াদের হয়রানি বন্ধ করতে শিক্ষা দফতর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এতে সকলেই উপকৃত হবেন। ছাত্রছাত্রীদের কোনও সমস্যা হবে না। আমরা তো তাঁদের পাশে রয়েছই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement