উত্তরে দু’মাসে এইএস-এ মৃত ৬, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে টিকাকরণ চালু হলেও ফের বছরের শুরু থেকেই অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৬ ০১:৩০
Share:

জাপানি এনসেফ্যালাইটিসে টিকাকরণ চালু হলেও ফের বছরের শুরু থেকেই অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রেই জানা গিয়েছে, গত দু’মাসে এইএস-এ ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২৭ জন আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছেন। তাতেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে চিকিৎসকদের। মৃতদের মধ্যে এক জন জেই আক্রান্ত বলে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল সূত্রেই জানা গিয়েছে। জেই ছাড়া অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্তরা অন্য কোনও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন কিনা তা নিয়ে কার্যত চিকিৎসকেরা দিশাহারা। উত্তরবঙ্গে পর্যাপ্ত টিকাকরণ হয়নি বলে চিকিৎসকদের একাংশই জানিয়েছেন।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অরুণাভ সরকার বলেন, ‘‘জেই টিকা জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার অনেক ব্লকে হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাগুলিতেই বাচ্চা থেকে বয়স্ক সমস্ত বাসিন্দাদের টিকাকরণ জরুরি। পর্যাপ্ত টিকা না পাওয়ায় সমস্যা রয়েছে বলে শুনেছি।’’ জেই ছাড়া অন্য কোনও জীবাণুর কারণে অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছেন কিনা সেটাও জানার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। জেই বা এইএস আক্রান্তরা কেউ টিকাকরণ করেছিলেন কি না সে তথ্য স্পষ্ট কিছু দিতে পারছেন না উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। অরুণাভবাবু জানান, এমন তথ্য তাঁর কাছে নেই।

Advertisement

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের সুপার নির্মল বেরা বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি-সহ যে সমস্ত জায়গা থেকে এইএস রোগীরা আসছেন সে রকম অনেক ক্ষেত্রেই টিকারণ হয়নি। তবে টিকাকরণের পরও রোগ সংক্রমণের তথ্য নেই। জেই ছাড়া অন্য কোনও জীবাণু থেকে রোগ সংক্রমণ ঘটছে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।’’

চার বছর ধরে এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মিছিল রুখতে জেই-র টিকাকরণে জোর দেওয়া হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল, জাপানি এনসেফ্যালাইটিস ভাইরাসের প্রকোপেই মৃত্যু মিছিল বাড়ছে। কচিকাঁচাদের জেই প্রতিষেধক টিকাকরণ পদ্ধতি ছিলই। ছিল না বয়স্কদের জন্য প্রতিষেধক। গত বছর থেকে তাও করা হচ্ছে দার্জিলিং জেলা-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাগুলিতে। কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকাতেই সমস্যা বেড়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্রই জানিয়েছে, প্রায় দেড় কোটি টিকা চাওয়া হয়েছিল। সেই মতো টিকা মেলেনি।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে খবর, জানুয়ারি মাসে কার্শিয়াঙের এক বাসিন্দা মারা গিয়েছে। দার্জিলিং জেলায় ওই রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এই মুহূর্তে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন, তার মধ্যে আছেন শিলিগুড়ি শহরের প্রধাননগর এলাকার বাসিন্দা এক কিশোরী। রয়েছে খড়িরবাড়ির বাসিন্দা এক কিশোর। পাহাড় এবং সমতল মিলিয়ে জেলায় বয়স্কদের টিকাকরণও করা হয়েছে ব্যাপক ভাবে। তবে আক্রান্তরা টিকা নিয়েছেন কি না তা নিয়ে তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। শিলিগুড়ি শহরে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে পুরসভার কাছেও তথ্য নেই। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শহরে অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রমে আক্রান্ত হয়েছেন বাসিন্দারা এমন কোনও কথা স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানানো হয়নি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement