Uttarkanya march

আহতদের নিয়ে রহস্য রয়েই যাচ্ছে

জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়ের দাবি, যাঁদের গুলি লেগেছিল অনেকে নার্সিংহোমে চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন। কেউ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিসায় সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু যাঁরা আর সুস্থ হচ্ছেন না, যাঁদের আরও ভাল চিকিৎসকের কাছে দেখানোর কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে আনা হয়েছে।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী ও নীতেশ বর্মণ

শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ ০৩:৪০
Share:

প্রতীকী ছবি।

উত্তরকন্যা অভিযানে ছররা গুলিতে আরও কয়েকজন জখম হন বলে চাউর হয়। প্রথমে খোঁজ না মিললেও পরে আলিপুরদুয়ার ও হলদিবাড়িতে দু’জনের খোঁজ মেলে।

Advertisement

প্রশ্ন উঠেছে, সেদিনই শিলিগুড়িতে চিকিৎসা না করিয়ে কেন তাঁরা বাড়ি ফিরে গেলেন? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি থেকে তাঁরা ভর্তি না হয়ে চলে যান বলে খবর। বাড়ি ফিরে শারীরিক সমস্যা বাড়তেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেন ওই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।

শুক্রবার বিজেপির নেতারা এমন ন’জন কর্মীকে প্রকাশ্যে এনে চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ জয়ন্ত রায়।

Advertisement

বিজেপির দাবি, আহতদের বুকে, মাথায় এখনও ছররা গুলির আঘাত রয়েছে। মেডিক্যালে এ দিন চিকিৎসকরা দেখে ৮ জনকে ভর্তি হতে বলেন। এঁদের ৪ জনের কোভিড পরীক্ষার পর তাঁদের ভর্তি প্রক্রিয়া হয়েছে। বাকিদের সোমবার পরীক্ষা করিয়ে ভর্তির করানো হবে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, মাথার পিছনে ছররা গুলি লেগেছে রাজগঞ্জের বিজেপি কর্মী কৃষ্ণ দাসের। কৃষ্ণর দাবি, তিনি ফুলবাড়ির মিছিলের অনেকটাই পিছনে ছিলেন। মিছিল থেকে ফেরার মুখে হাঁটছিলেন। তখনই সোজা তাঁর মাথায় গুলি লাগে বলে জানান। বলেন, ‘‘কী করে যে গুলি লাগল বুঝতে পারলাম না।’’ মিছিলের পিছনে কী করে ছররা গুলি চলল বিজেপি নেতারাও তা খোঁজ নিচ্ছেন।

গুলি লেগেছে হলদিবাড়ি টাউন মণ্ডলের সভাপতি অমরদীপ রায়েরও। এক্স-রে করার পর হৃদপিণ্ড থেকে কয়েক সেন্টিমিটার দূরে তার গুলি রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘‘সেদিন তেমন গুরুতর মনে হয়নি। সেজন্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গিয়েছিলাম। এখন সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।’’ বিজেপি কর্মী কাজল সরকার এবং মৃণাল রায়ের শরীরে ছররা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁদেরও দাবি, চিকিৎসার প্রয়োজন নেই ভেবে বাড়ি যাই। বাকিদেরও বুকে এবং পেটে, পিঠে ছররার আঘাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ সকলের শারীরিক পরীক্ষার পর রিপোর্ট তৈরি শুরু করেছে।

জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়ের দাবি, যাঁদের গুলি লেগেছিল অনেকে নার্সিংহোমে চিকিৎসা করতে গিয়েছিলেন। কেউ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিসায় সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু যাঁরা আর সুস্থ হচ্ছেন না, যাঁদের আরও ভাল চিকিৎসকের কাছে দেখানোর কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে আনা হয়েছে। তিনি জানান, অনেকের দেহে এখনও ছররা গুলি রয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে তৃণমূল কী করছে তা মানুষ দেখছে বলে সাংসদ জানিয়েছেন।

তৃণমূলের ডাবগ্রাম-ফুলবাডি ব্লক সভাপতি দেবাশিস প্রামাণিকের অভিযোগ, এতদিন তাঁদের লুকিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বিজেপি কর্মীদের গুলিতেই যে তাঁরা আহত হয়েছেন, তা ঢাকার চেষ্টা হয়েছে। এখন তো সব পরিষ্কার হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement