প্রতীকী ছবি।
মালদহের কালিয়াচকে ব্রাউন সুগারের (বিএস) কারবারে কি ফের জেগে উঠছে? ইংরেজবাজার শহর এবং কালিয়াচক জুড়ে বেশ কিছু দিন ধরে এই মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেফতারে এই প্রশ্ন উঠছে। এক সময় কালিয়াচক সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে বেআইনি পোস্ত চাষের রমরমা ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে পুলিশ প্রশাসন জেলাকে ‘জ়িরো পপি কাল্টিভেশন’ বা পোস্ত চাষমুক্ত জেলা হিসেবে দাবি করে আসছে। ফলে কালিয়াচকে বিএস-এর কারবার নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এই কারবার কি শুধু মালদহ জেলাতেই সীমাবদ্ধ, নাকি তা পাড়ি দিচ্ছে ভিন্ রাজ্য বা সীমান্ত টপকে বাংলাদেশেও? এই কারবারের কিংপিনই বা কারা?
একটা সময় কালিয়াচকের কয়েকটি ডেরায় পোস্তর আঠা থেকে প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি করা বিএস-এর কারবার রমরমিয়ে চলত। অভিযোগ, এই বিএস চলে যেত মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্যের বড় শহরগুলিতে। কিন্তু ২০১৭ সালে জেলা পুলিশ, প্রশাসন ও আবগারি দফতর যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বেআইনি পোস্ত চাষ বন্ধের পাশাপাশি এই কারবারে জড়িত কিংপিনদের অনেককেই গ্রেফতার করে।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে জেলায় পোস্ত চাষ না হলেও কালিয়াচকের বিভিন্ন ডেরা, বিশেষ করে মোজমপুর, নারায়ণপুর, কিসমতপুর, বালুয়াচরা, জালুয়াবাধাল প্রভৃতি এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ হয়ে যায়নি।
এখন পোস্ত বা আফিমের আঠা মূলত আসছে মণিপুর থেকে। সেই আঠা অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড, সোডিয়াম কার্বোনেটের মতো আরও কিছু কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে বিএস তৈরি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, কালিয়াচকের কারবারিরা খালি বা পণ্যবাহী ট্রাকে করে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে মণিপুরের কারবারিদের কাছে এবং একই ভাবে সেখান থেকে কারবারিরা পোস্তর আঠা খালি বা পণ্যবাহী ট্রাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে কালিয়াচকে।
দু’বছর আগে এমনই একটি খালি ট্রাক থেকে জেলা পুলিশ ৬৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল। পুলিশের দাবি, কালিয়াচকের এক মাদকের কিংপিন সেই টাকা খালি ট্রাকে চালকের সিটের তলায় করে পাঠাচ্ছিল মণিপুরে পোস্তর আঠা আনতে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কালিয়াচকের বিভিন্ন ডেরায় তৈরি করা বিএস পুরিয়া করে বিক্রির জন্য জেলায় যেমন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তেমনি ক্যারিয়ার মারফত প্যাকেটবন্দি হয়ে তা চলে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা সহ বিভিন্ন রাজ্যেও। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘‘পুলিশ সক্রিয়। কারবারিদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। বিএস-এর কারবারের সাপ্লাই চেন আমরা বন্ধ করে দিতে চাইছি।’’