পদে হেড কনস্টেবল। কিন্তু সাঙ্কেতিক নাম ‘সার্জেন্ট’। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চর সন্দেহে ধৃত জওয়ান ফরিদ খান ‘সার্জেন্ট’ ছদ্মনামেই তথ্য পাচার করতেন বলে দাবি সেনা গোয়েন্দাদের। শিলিগুড়ির এক সেনা ছাউনির অস্ত্রাগারের হেড কনস্টেবল হওয়ার সুবাদে নানা সেনা ছাউনিতে অবাধ যাতায়াত ছিল ফরিদের। সেই সুবাদে সেই সব ছাউনির অস্ত্রভাণ্ডার সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর মাধ্যমে পাচার হয়েছে বলে এখন আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। কাজের ফাঁকে সেনা-এলাকার বাইরে গিয়ে মোবাইলের সিম-কার্ড পাল্টে ওই জওয়ান নানা সময়ে তথ্য পাচার করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বছর পঁয়তাল্লিশের ফরিদ গোড়ায় জম্মু-কাশ্মীরের সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারের কনস্টেবল ছিলেন। সেখান থেকে বছর তিনেক আগে বেংডুবিতে বদলি হন বলে সরকারি সূত্রের খবর। ওই সূত্রের দাবি, কাজের পরিধির বাইরেও সেনাবাহিনীর নানা এলাকার অস্ত্রাগারের ব্যাপারে চোখে পড়ার মতো আগ্রহ ছিল ওই জওয়ানের। তা নিয়ে সেনা জওয়ানদের মধ্যেও নানা আলোচনা হতো। সেই সূত্রেই সেনা গোয়েন্দারা নজরে রেখেছিলেন তাঁকে।
গোয়েন্দারা টের পেয়েছিলেন, কাশ্মীরের কোথাও কথাবার্তা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি লাগোয়া এলাকা থেকে। কিন্তু কাশ্মীরে নানা সময়ে ধৃতদের জেরা করে ফরিদের জড়িত থাকার কোনও তথ্য পুলিশের হাতে আসেনি। শনিবার রাজৌরির বাসিন্দা সরকারি স্কুল শিক্ষক নাদিম সাবিরকে গ্রেফতার করে দিল্লি ও জম্মু পুলিশ। তাকে জেরার পরেই ফরিদের নাম সামনে আসে। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নাদিমের সঙ্গে ফরিদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মোবাইলে দু’জনের কথাবার্তার প্রমাণও মিলেছে। এর পরেই দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা রাতারাতি ফরিদকে গ্রেফতার করে। তাঁকে আদালতে তুলে জেরার জন্য হেফাজতে রাখার অনুমতিও পায়।
শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে বেংডুবি সেনাছাউনি ছিল ফরিদের কর্মস্থল। কিন্তু কাজের সুবাদে সুকনায় বাহিনীর সদর দফতরের অস্ত্রাগারে, সেবক রোডের শালুগাড়ার সেনা দফতরেও যেতে হতো তাঁকে। সিকিমে মোতায়েন বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের সুলুকসন্ধানও তাঁর অজানা নয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃতকে জেরা করে ইতিমধ্যে বহু তথ্য মিলেছে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ফরিদের মোবাইল ও সিমকার্ডের সংখ্যা অন্তত গোটা পাঁচেক। সেগুলি ব্যবহার করে তিনি কী জাতীয়, কত তথ্য পাচার করেছেন তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে গোয়েন্দাদের।