চা-মজুরি নিয়ে ভোটের আগেই রফা চায় রাজ্য

এ দিনের বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট নয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার মালিকপক্ষের সুবিধা দেখছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০২:২৬
Share:

উত্তরবঙ্গে এলেই মুখ্যমন্ত্রী চা বাগানে শ্রমিকদের মজুরির বিষয়টি তুলে আশ্বাস দিলেন, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু ভাবুক বা না ভাবুক, রাজ্য ভাবছে। সেই সূত্র ধরেই এ বারে পঞ্চায়েত ভোটের আগে মজুরি নিয়ে একটি রফাসূত্র বের করতে সচেষ্ট হল রাজ্য। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়িতে রয়েছেন। এ দিনই তাঁর মন্ত্রিসভার তিন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ঠিক হয়, রেশন বাবদ কিছু অর্থ চা শ্রমিকদের মজুরিতে যোগ হবে। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী মার্চে, কলকাতার বৈঠকে।

Advertisement

যদিও এ দিনের বৈঠক নিয়ে সন্তুষ্ট নয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার মালিকপক্ষের সুবিধা দেখছে।

এ দিন ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এবং পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর, আলোচনায় গতি আনতেই অরূপবাবুকে বৈঠকে পাঠানো হয়।

Advertisement

একটা সময়ে চা শ্রমিকদের রেশনবাবদ খরচ দিতেন বাগানের মালিকরাই। গত দেড় বছর ধরে সেই টাকা অবশ্য রাজ্য সরকার দিচ্ছে। এখন সরকার চাইছে, রেশনবাবদ উদ্বৃত্ত হওয়া অর্থ মালিকরা মজুরির সঙ্গে দিয়ে দিন। রাজ্য যেমন রেশন দিচ্ছে, তেমনই দেবে। এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী ভাতা বাবদ যে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা রাজ্য সরকার দেয়, তা চালু থাকবে। এই নিয়ে দু’পক্ষকেই ভাবার সময় দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাই আগামী ১২ মার্চ কলকাতায় পূর্তমন্ত্রীর দফতরে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ অবশ্য এ দিনের বৈঠকের পরে ক্ষোভ জানিয়েছেন। বাম-ডান ও বিভিন্ন বিরোধী দলের শ্রমিক সংগঠনের যৌথ ফোরামের আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘আজকের বৈঠকে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ন্যূনতম মজুরি নিয়েও কোনও কথা হয়নি। এই সরকার শুধু মালিকপক্ষকে সুবিধে পাইয়ে দিতে চাইছে। একের পর এক বৈঠক করে শুধু দেরি করেই চলছে।’’ ন্যূনতম মজুরি চালু করার দাবিতে প্রতিটি চা বাগানে গেট মিটিং-সহ বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যৌথ ফোরাম। অরূপবাবুর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সব সময়েই চা শ্রমিকদের স্বার্থের কথা ভেবেছেন। তাঁর হস্তক্ষেপেই শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। ভবিষ্যতেও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন।’’ সমতলের মতোই পাহাড়ের শ্রমিকরাও আগামী এপ্রিল থেকে এই বাড়তি ভাতা পাবেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জিটিএ-র চেয়ারম্যান বিনয় তামাঙ্গ এবং ভাইস চেয়ারম্যান অনীত থাপাও।

সূত্রের খবর, পরের বৈঠকে ন্যূনতম মজুরি চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও শ্রমিকদের মজুরি আরও কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ দিন শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেখতেই পাচ্ছেন তিন জন মন্ত্রী বৈঠকে রয়েছি। সুতরাং রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে কতটা আন্তরিক, তা নিয়ে নিশ্চয়ই দ্বিমত নেই।’’ বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির মৈনাক পর্যটন আবাসে চা মালিক, শ্রমিকপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে রাজ্য সরকার। মালিক সংগঠনের তরপে প্রদীপ ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘দেখা যাক আগামী মার্চের বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়।’’ অন্যদিকে বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠনের নেতা জন বার্লার অভিযোগ, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটের আগে যত পাওনা তার থেকে অনেক কম টাকা বাড়িয়ে শ্রমিকদের গিমিক দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার। এতে মালিকপক্ষও খুশি হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement