জিম-পার্লারের কর্মী সঙ্গীতা কুণ্ডু নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁর মোবাইলের সূত্র ধরেই পুলিশের হাতে বেশ কিছু তথ্য পৌঁছেছে। পুলিশের সন্দেহ, তরুণী নিখোঁজ হলেও তাঁর মোবাইল অন্য কারও হাতে চলে যায়। সেই সূত্রেই সিম কার্ড, কল রেকর্ডের নথি ধরে পুলিশ এগোতে চাইছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের একাংশের দাবি, মোবাইলের নানা সূত্র ধরেই জিম মালিক পরিমল সরকার ও তাঁর সংস্থার ৩ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, গত ১৭ অগস্ট তাঁর কর্মস্থল ভক্তিনগর থানার সেবক রোডের অফিস থেকে নিখোঁজ হয়। তদন্তে নেমে মোবাইল নম্বরটির বিভিন্ন এলাকায় থাকার কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা শুধু বলেছেন, ‘‘আমাদের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করছে। কিছু তথ্য হাতে থাকায় গ্রেফতার করায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তরুণী ঠিক কোথায়, কীভাবে আছে তাই এখন খুঁজে বার করার চেষ্টা হচ্ছে।’’
পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে, তদন্তে নেমে নিখোঁজ তরুণী সেই সমস্ত জায়গায় থাকতে পারে ভেবে পুলিশের দল খোঁজখবর শুরু করে। মালদা, কলকাতা এর অন্যতম দেখে পুলিশ দলটি সেখানে ঘুরেও আসে। কিন্তু খোঁজ মেলে না তরুণী সঙ্গীতার। তদন্ত চলাকালীনই ওই মোবাইলে অন্য একটি সিমকার্ডের হঠাৎ ব্যবহার তদন্তের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়। পুলিশ অফিসারেরা নতুন সিমকার্ডের মালিককে চিহ্নিত করেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে সঙ্গীতার মোবাইল টেলিফোনটির বিভিন্ন অবস্থানের সঙ্গে নতুন নম্বরের মালিকের অবস্থানও কিছু কিছু মেলা শুরু করতেই পুলিশের সন্দেহ বাড়তে থাকে। তবে চারজনকে গ্রেফতার করলেও এখনও পর্যন্ত সঙ্গীতার হদিস পুলিশ পায়নি।
তিনি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, তা জানার জন্য ধৃত চারজনকে টানা জেরা শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার, ডিসি (ডিডি)-সহ তদন্তকারী দলের অফিসারেরা ধৃতদের জেরা করছেন। পুলিশ সূত্রের খবর, সঙ্গীতা নিখোঁজ হওয়ার ৮দিন পর ২৬ অগস্ট জিম-পার্লারের মালিক ধৃত পরিমল সরকার ভক্তিনগর থাকায় মিসিং ডায়েরি করেন। তাঁর সেবক রোডের দফতর-ফ্ল্যাট থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে পরিমলবাবু পুলিশকে জানান। প্রথমে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। ৫ সেপ্টেম্বর সঙ্গীতার মা অঞ্জলিদেবী এবং দাদা শম্ভুবাবু পরিমলবাবুর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করেন। তদন্তে গোয়েন্দা শাখা-সহ বিশেষ তদন্তকারী দল গড়ে দেন পুলিশ কমিশনার। তার পর থেকেই তদন্তে নানা ধরমের তথ্য পুলিশের হাতে আসা শুরু করে। তরুণীর মোবাইলটি বন্ধ থাকার পর তা কেন খোলা হল, কেনই বা তাতে নতুন নম্বর ভরা হল তা খতিয়ে দেখছেন অফিসারেরা। বিশেষ করে, সঙ্গীতার মোবাইল থেকে কোনও মেসেজ, ছবি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না তা সেটটি না থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী অফিসারদের সন্দেহ, সঙ্গীতার অগোচরে তাঁর মোবাইল ব্যবহার করা হয়েছে।