Coronavirus

সংক্রমণে টক্কর তিনে

তিন জেলারই স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা বলছেন, “পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি সহমর্মিতা রয়েছে।”

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২০ ০৫:৫৯
Share:

চিহ্ন: ভিন্ রাজ্য ফেরত শ্রমিকের আঙুলে কালির দাগ। নিজস্ব চিত্র

ভিন্ রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরতেই করোনা-চিত্র উদ্বেগজনক গৌড়বঙ্গের তিন জেলায়।

Advertisement

জেলাবাসীর একাংশের বক্তব্য, মালদহে ভিন্ রাজ্য থেকে একের পর এক ট্রেন, বাস ও ট্রাকে শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করায় জেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার রাত পর্যন্ত তা ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই পরিস্থিতি উত্তর দিনাজপুরেও। ওই জেলা এখন মালদহকে ছাপিয়েছে। মঙ্গলবার তা পৌঁছেছে ১৬৬-তে। করোনা রোগীর সংখ্যা একই কারণে বাড়ছে দক্ষিণ দিনাজপুরেও। মঙ্গলবার তা ছিল ৩১।

তিন জেলারই স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা বলছেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি সহমর্মিতা রয়েছে। কিন্তু এটা বাস্তব যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ফেরার পর থেকেই গৌড়বঙ্গের তিন জেলায় করোনা আক্রান্তের মানচিত্র উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছতে শুরু করেছে।’’

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রতি দিন তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক ফিরছেন মালদহে। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, প্রথম দিকে পরিযায়ী শ্রমিকরা যখন বাস-ট্রাকে ফিরছিলেন, তখন গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাসে প্রায় সকলেরই লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস ও ট্রাকের পাশাপাশি শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালু হওয়ার পরে লালারস নমুনা সংগ্রহের কাজ অনেক কমে গিয়েছে। বিশেষ করে, ট্রেনে যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন, তাঁদের ‘থার্মাল স্ক্রিনিং’য়ের পরে নাম ও ফোন নম্বর নিয়ে, আঙুলে কালি লাগিয়ে সরকারি কোয়রান্টিনে পাঠানো হচ্ছে।

সোমবার রাতে জেলায় নতুন করে আরও চারজনের লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট ‘পজ়িটিভ’ আসে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, তাঁদের তিন জনের বাড়ি বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী পঞ্চায়েতের সামসাবাদ গ্রামে। ওই তিন জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। কারণ সামসাবাদ দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের একেবারে কাছাকাছি। মুম্বই থেকে ফেরা ওই তিন পরিযায়ী শ্রমিক ব্রাহ্মণী নদী পেরিয়ে তপন ব্লকের লক্ষ্মীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের লালারসের নমুনা নেওয়া হয়। অন্য আক্রান্ত ইংরেজবাজার ব্লকের বাসিন্দা। তবে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাঁর খোঁজ পায়নি প্রশাসন।

উত্তর দিনাজপুরে আরও ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তবে তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হবে না বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তবে তাঁদের বাড়ি জেলার কোন এলাকায়, সেই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দফতর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ‘‘জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত ওই ৬ জনের ১৫ দিন আগে লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তার ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের কোনও উপসর্গ মেলেনি। তাই আইসিএমআর-এর গাইডলাইন মেনে তাঁদের ১৪ দিনের হোম কোয়রান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

দক্ষিণ দিনাজপুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩১। এ দিকে, এ দিন জেলায় নতুন করে আক্রান্তদের রিপোর্টে মালদহের তিন জনের নামও ছিল। তা নিয়ে সকাল থেকে দুই জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের মধ্যে চলে টানাপড়েন। জানা গিয়েছে, এ জেলায় তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ হলেও মালদহের বাসিন্দা আক্রান্ত তিন পরিযায়ী শ্রমিকের চিকিৎসা সেখানেই করতে হবে বলে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক নিখিল নির্মল মালদহের জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে জানান। শেষ পর্যন্ত মালদহ ওই তিন আক্রান্ত শ্রমিকের চিকিৎসা শুরু করে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানান, ‘‘এদিন জেলায় যে আট জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে। তাদের বালুরঘাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement