অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা, ধৃত ৩ টিএমসিপি সমর্থক

অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগে কালিয়াগঞ্জ কলেজের তিন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা সকলেই নিজেদের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সমর্থক বলে দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাপি মণ্ডল, শুভদীপ মণ্ডল ও বিজয় গুপ্ত। ধৃতরা সকলেই স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০১৫ ০২:৩৬
Share:

রায়গঞ্জ আদালত চত্বরে ধৃতেরা। —নিজস্ব চিত্র।

অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলার অভিযোগে কালিয়াগঞ্জ কলেজের তিন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা সকলেই নিজেদের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সমর্থক বলে দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাপি মণ্ডল, শুভদীপ মণ্ডল ও বিজয় গুপ্ত। ধৃতরা সকলেই স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়া।

Advertisement

টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর কলেজের অধ্যক্ষ জিতেশচন্দ্র চাকির বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ কালিয়াগঞ্জের মহাদেবপুর এলাকার বাসিন্দা বাপিকে বৃস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয় পাবনা কলোনি ও মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা শুভদীপ ও বিজয়কে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বাড়ির সামনে থেকে ধরে পুলিশ।

ধৃতদের এদিন রায়গঞ্জের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হয়। বিচারক সব্যসাচী চট্টোরাজ ব্যক্তিগত ৬০০ টাকা করে বন্ডে তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৫ জুন ফের তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, ‘‘অধ্যক্ষ জিতেশবাবুর অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ, হুমকি ও অপরাধমূলক একই উদ্দেশ্যে জমায়েত হওয়ার অভিযোগে ৪২৭, ৪৪৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করে। প্রতিটি ধারা জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছে।’’

Advertisement

এ দিন আদালতে দাঁড়িয়ে ধৃত শুভদীপ দাবি করেন, তাঁর বাবার অসুস্থতার কারণে তিনি এবছর পার্ট-টুয়ের পরীক্ষাতেই বসেননি। বিজয় ও বাপির দাবি, স্নাতকে তাঁদের ইতিহাস ও দর্শন বিষয় না থাকায় গত বুধবার তাঁরা ওই দুটি বিষয়ের পরীক্ষা দিতে বুনিয়াদপুর কলেজে যাননি। তাঁদের কথায়, ‘‘আমরা টিএমসিপির সাধারণ সমর্থক। আমরা অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালাইনি। পুলিশ আসল দোষীদের গ্রেফতার না করে আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কলঙ্কিত করল।’’ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজার দাবি, ‘‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে তথ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার পর তাদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত ধারায় মামলা দায়ের করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।’’

এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক প্রাণেশ সরকার বলেন, ‘‘অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলার ঘটনার পিছনে কালিয়াগঞ্জের টিএমসিপি নেতারা জড়িত রয়েছেন। ধৃতরা সমর্থক হলেও টিএমসিপির নেতাদের মদত ছাড়া তাদের পক্ষে অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালানো সম্ভব নয়।’’ ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষের দাবি, ‘‘টিএমসিপি নেতাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করে পুলিশ আসল অভিযুক্তদের বাঁচাতে নিরীহ পড়ুয়াদের গ্রেফতার করে সবার নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।’’

টিএমসিপির জেলা সভাপতি অজয় সরকারের অবশ্য দাবি, টিএমসিপির কোনও নেতা বা সমর্থক অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়নি। তিনি বলেন, ‘‘টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে বুনিয়াদপুর কলেজে এসএফআই ও ছাত্র পরিষদ কিছু সমর্থকদের প্ররোচনায় সাধারণ পড়ুয়ারা অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়। তিনি বলেন, ‘‘ধৃতরা টিএমসিপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। জেলায় লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া টিএমসিপির সমর্থক। তাই বলে কেউ বেআইনি কাজ করলে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’’

বুধবার প্রথমার্ধে বুনিয়াদপুর কলেজে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট ওয়ানের পাস কোর্সের দর্শনের তৃতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়াদের আসন ওই কলেজে পড়েছে। প্রথমার্ধের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের একাংশ গণ টোকাটুকির চেষ্টা করে। অধ্যক্ষ জিতেশবাবু-সহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের টোকাটুকি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে পার্ট টুয়ের পাসকোর্সের ইতিহাসের ষষ্ঠ পত্রের পরীক্ষাতেও পরীক্ষার্থীরা গণ টোকাটুকির চেষ্টা করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারির জেরে তারা সফল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে সাড়ে তিনটে নাগাদ একদল কালিয়াগঞ্জ কলেজের একদল পড়ুয়া তথা বুনিয়াদপুর কলেজের পরীক্ষার্থী মুখে রুমাল বেঁধে জিতেশবাবুর কালিয়াগঞ্জের উত্তর চিড়াইলপাড়া এলাকার বাড়িতে যথেচ্ছ পাথর ছুড়ে চারটি জানালার কাঁচ ভেঙে দেয়। জিতেশবাবু এ দিন বলেন, ‘‘বাকি অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আমি ও আমার পরিবারের আতঙ্ক থেকেই যাবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement