মধ্যরাতে পাকড়াও পানশালা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ধর্ম

পুলিশ সূত্রে ধর্মকে পাকড়াওয়ের যে কাহিনি জানা গিয়েছে, তা যে কোনও রোমাঞ্চকর রহস্য গল্পের সমতুল।

Advertisement

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০১৯ ০৪:৩৩
Share:

— ফাইল চিত্র

পরপর কয়েক দিন একই গাড়িতে চেপে যাতায়াত এবং ঘনিষ্ঠ একজনের মোবাইলে বারবার ফোন করা। এই দুইয়ের সূত্রই ধরিয়ে দিল পানশালা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ধর্ম পাসোয়ানকে। পুলিশ সূত্রে এমনটাই দাবি।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে ধর্মকে পাকড়াওয়ের যে কাহিনি জানা গিয়েছে, তা যে কোনও রোমাঞ্চকর রহস্য গল্পের সমতুল। গত কয়েক দিন ধরে ধর্মের গাড়ি এবং মোবাইলে নজর রাখার পরে পুলিশ নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত রয়েছেন কলকাতার ট্যাংরায় একটি ফ্ল্যাটে। মঙ্গলবার রাত তখন দু’টো। ওই ফ্ল্যাটে আচমকা হানা দেয় পুলিশ।

সূত্রের খবর, ধর্মের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দরজা খোলে। পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ভিতরে ঢুকে ধর্মের নাগাল পায়। পরে পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, কলকাতার কোথায় ধর্ম থাকতে পারে, তার প্রথম আন্দাজ মিলেছিল মোবাইল টাওয়ারের থেকে। নিজের মোবাইল বন্ধ রাখলেও দু’দিন আগে জলপাইগুড়িতে এক ঘনিষ্ঠের মোবাইলে ফোন করেছিল ধর্ম। তাঁর মোবাইলে ফাঁদ পেতে রেখেছিল পুলিশ। ধর্ম ওই ব্যক্তিকে ফোন করে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টা পরেই জলপাইগুড়ি পুলিশের দল পৌঁছয় ধর্মের ফ্ল্যাটে।

Advertisement

গত ১৬ জুলাই ধর্মের পানশালায় অভিযানের পরদিন দুপুরে ধর্ম জলপাইগুড়ি ছাড়েন বলে দাবি। তার পর থেকে কলকাতাতেই ছিলেন। বার কয়েক ডেরা পাল্টে পুলিশের চোখে ধুলোও দেন। তবে মোবাইলে টাওয়ার ধরে ধর্মকে খুঁজে পায় পুলিশ। তিন দিন তাঁকে ট্যাংরার বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। ধর্মর গাড়িও ছিল একই। মঙ্গলবার প্রথমে সেই গাড়ির চালককে খুঁজে বের করে পুলিশ। তারপর ধর্মের ঠিকানা পেতে আর বেশি সময় লাগেনি।

জলপাইগুড়ির জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক মোদীর কথায়, “আমরা প্রথম থেকেই কলকাতায় লাগাতার নজরদারি চালাচ্ছিলাম। বহু সূত্রকে কাজে লাগাই। তাতেই মূল অভিযুক্তকে ধরা গিয়েছে।”

ধর্মকে ধরার পরের ঘটনাও নাটকীয়। বুধবারই জলপাইগুড়ির জেলা আদালতে ধর্ম পাসোয়ানের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। একবার আগাম জামিন পেয়ে গেলে ধর্মকে গ্রেফতার করতে পারত না পুলিশ। এ দিকে মামলার মূল অভিযোগকারিণীই দাবি করেছেন, তাঁকে দিয়ে পুলিশ জোর করে মিথ্যে অভিযোগ লিখিয়েছে। তা নিয়ে হাইকোর্টে শুনানিও চলছে। তার পরে খোদ ধর্মই আগাম জামিন পেয়ে গেলে মামলাটি লঘু হয়ে যেত।

এর পরে ধর্মকে দ্রুত উত্তরবঙ্গে এনে নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ।

মালবাজারের ওসি অসীম মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের যে দলটি ধর্মকে ধরতে গিয়েছিল, তারা রাতেই গাড়িতে রওনা হয়ে যায়। তবু বুধবার তাঁরা জলপাইগুড়ি পৌঁছতে পারেননি উত্তর

দিনাজপুরের যানজটের জন্য। তাই পথে ইসলামপুর আদালতে ধর্মকে হাজির করিয়ে

একদিনের ট্র্যানজিট রিমান্ড নেয় পুলিশ। আজ, বৃহস্পতিবার ধর্মকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তোলা হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement