Cooch Behar TMC

‘তৃণমূলকে পৈতৃক সম্পত্তি ভেবেছেন পরেশ’! বিধায়কের বিরুদ্ধে তোপ দেগে পদ ছেড়ে উত্তম চললেন তফাতে

ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী পৈতৃক সম্পত্তির মতো করে দল পরিচালনা করছেন। জেলা নেতৃত্ব আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছেন। কিন্তু আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাচ্ছি না।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩২
Share:

তৃণমূল বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ইস্তফাপত্র পাঠালেন তৃণমূল নেতা উত্তম সরকার। —নিজস্ব ছবি।

পদে থেকেও তিনি ব্রাত্য। সভায় ডাকা হয় না, কোনও বৈঠকেও ডাক পান না। এমনই সব অভিযোগ তুলে দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ব্লক সহ-সভাপতির পদ ছাড়লেন তৃণমূল নেতা। বিধানসভা ভোটের আগে যা নিয়ে শোরগোল কোচবিহার জেলা তৃণমূলের অন্দরে। ‘বিদ্রোহী’ নেতাকে আলোচনায় বসতে আহ্বান করলেন স্থানীয় নেতৃত্ব।

Advertisement

২০২৫ সালের ২৬ অগস্ট কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি করা হয় উত্তম সরকারকে। কিছু দিন ভালই যাচ্ছিল। কিন্তু দলে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকেন উত্তম। তাঁর অভিযোগ, দলীয় কর্মসূচি থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়। নেতৃত্বের তরফে কোনও গুরুত্ব পান না। গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও কাজ করতে পারছেন না। এমনই সব কথা বলে উত্তম সংশ্লিষ্ট পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি লিখেছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককে। চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

উত্তমের অভিযোগ মূলত মেখলিগঞ্জের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘‘মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দলকে পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে নিয়েছেন।’’ তাঁর দাবি, বিধায়কের অঙ্গুলিহেলনে তিনি পদে থেকেও কাজ করতে পারছেন না। তাই পদ আঁকড়ে বসে থাকার কোনও কারণ দেখছেন না।

Advertisement

ওই তৃণমূল নেতা জানান, রবিবার দলের জেলা সভাপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘ছ’মাস আগে এআইটিসি এবং জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে আমাকে মেখলিগঞ্জ ব্লকের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ব্লকের দলীয় কোনও কর্মসূচিতে আমাকে ডাকা হয়নি। এমনকি, স্থানীয় বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী পৈতৃক সম্পত্তির মতো করে দল পরিচালনা করছেন। জেলা নেতৃত্ব আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছেন। কিন্তু আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটুকু পাচ্ছি না। তাই মেখলিগঞ্জ ব্লকের সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। সমাজমাধ্যমে এ নিয়ে লিখেছি।’’

এ নিয়ে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণের বক্তব্য, দল কারও ব্যক্তিগত নয়। সেটা পরেশ অধিকারী কিংবা গিরীন্দ্রনাথের নয়। উত্তমকে অনুরোধ করব, দলীয় পদে থাকার জন্য। কোনও ব্যক্তির কারণে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ওঁদের মধ্যে কী সমস্যা রয়েছে, সেটা দলীয় ভাবে দেখা হবে।’’

তবে উত্তমের অভিযোগ এবং পদত্যাগ নিয়ে অভিজিৎ বা পরেশ, কেউ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement