উত্তরের কড়চা

১২ এপ্রিল জাতীয় পথনাটক দিবসে কোচবিহারের কম্পাস নাট্যদলের রজতজয়ন্তী বর্ষের শুভারম্ভ হল অণু-নাটক উৎসবের মধ্য দিয়ে। জেলার মোট চোদ্দোটি নাট্যদল এই অণুনাটক উৎসবে অংশ নেয়।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৩৫
Share:

অণু নাটক

Advertisement

১২ এপ্রিল জাতীয় পথনাটক দিবসে কোচবিহারের কম্পাস নাট্যদলের রজতজয়ন্তী বর্ষের শুভারম্ভ হল অণু-নাটক উৎসবের মধ্য দিয়ে। জেলার মোট চোদ্দোটি নাট্যদল এই অণুনাটক উৎসবে অংশ নেয়। উৎসবের উদ্বোধন করেন কোচবিহার ‘সম্মিলিত নাট্যকর্মী মঞ্চ’র সম্পাদক কিশোরনাথ চক্রবর্তী। সাগরদিঘির পাড়ে শহিদবাগ মুক্তমঞ্চে ক্রমানুসারে চোদ্দোটি নাট্যদল তাদের নাটক মঞ্চস্থ করে। কম্পাস নাট্যসংস্থার নিজস্ব প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘স্মৃতিবিভ্রম’ নাটকটি, যার নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন দেবব্রত আচার্য।

Advertisement

Advertisement

বৃষ্টিদেবতার পুজো

শ্বেতলানা রাইজোপোভা। ভারতের মূলত উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুতোয় বাঁধা। বিভিন্ন জনজাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, লোকজীবন, লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন দিক রাশিয়ান এই গবেষিকার চর্চার বিষয়। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে সাত-সমুদ্র তেরো-নদী পেরিয়ে উত্তরবঙ্গের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত জু়ড়ে চলেছে তাঁর অন্তরালের অন্বেষণ। সম্প্রতি এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আলোচনার এক পরিসরে পাওয়া গেল তাঁকে। শোনালেন রাজবংশী, টোটো, মেচ, রাভা, ধীমাল জনগোষ্ঠীর বৈচিত্রময় নানা দিক।

জানালেন খরা, অনাবৃষ্টি হলে রাজবংশী মহিলারা বৃষ্টির কামনায় রাতের অন্ধকারে নগ্ন হয়ে বৃষ্টির দেবতাকে যে-নৃত্যের মাধ্যমে আহ্বান জানায় তার নাম ‘হুদুম দ্যাও’। এই বৃষ্টিদেবতার পুজো-আচার এবং সেই সংক্রান্ত নৃত্যগীতগুলি তুলে ধরেন তিনি। শোনা গেল উত্তরবঙ্গের গ্রাম্য থানের বিভিন্ন দেবদেবী এবং পার্বণের কথা। ধীমাল জনজাতির গৃহচিত্রের বিবরণও উঠে এল তাঁর আলোচনায়। বোড়ো রাভাদের হাতে বোনা নিজস্ব পোশাক ফোতা ও দোকনা-য় আভাসিত লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যময় প্রকাশের কথাও তুলে ধরলেন। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাওয়া উত্তরের বিভিন্ন জনজাতির আত্মপরিচয় নির্মাণের উপকরণ ও উপাদানগুলি ছুঁয়ে গেলেন তিনি। ওঁর সহযোগী গবেষক দিলীপ বর্মা এই প্রসঙ্গে জানান, উত্তরের লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতি চর্চা প্রসারিত হচ্ছে এবং ভাবনার আদানপ্রদান ঘটছে। বিদেশিদের চর্চার ধারা কেমন, কী ভাবে তাঁরা ক্ষেত্রসমীক্ষা করেন, তাঁদের তথ্যপঞ্জি সংকলনের পদ্ধতি কী, এমন নানা বিষয়ে মত বিনিময়ের সুযোগ ঘটে। বিস্তৃত হয় চর্চার দিকটি। আলোচনাচক্রটির আয়োজক মাল পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ।

একলব্য অব্যক্ত

সম্প্রতি নর্থ বেঙ্গল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হল ‘একলব্য’ (সম্পাদক প্রকাশচন্দ্র শাসমল) পত্রিকা আয়োজিত সাহিত্যবাসর। আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হয় প্রকাশচন্দ্র শাসমলের পঞ্চম অণুগল্প-গ্রন্থ ‘অব্যক্ত’। প্রকাশ করেন বিমলেন্দু দাম। স্বরচিত কবিতা ও অণুগল্প পাঠ করন স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকরা।

পত্রিকার পক্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ স্নেহবালা শাসমল স্মৃতি অণুগল্প প্রতিযোগিতার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী চম্পককুমার দাস, মৌসুমী মজুমদার, অদ্রিজা রুদ্র ও রাজশ্রী মৈত্রর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠানে বিশেষ পুরস্কার পান প্রদ্যোৎ রাজগুরু। আজীবন সুকৃতি সম্মান পান শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক বিমলেন্দু দাম।

নাটকের স্বপ্ন

যেন নাট্যচর্চার ধারায় অবগাহন স্নান দুই প্রজন্মের। ছোটবেলায় তাঁর বাড়ির বারান্দায় নাটক হত। গ্রামের মাঠে বসেও অবাক চোখে নাটক দেখেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন অভিনয় করার। ১৯৮৩-তে যোগ দেন মাথাভাঙার একটি নাট্যদলে। প্রথম অভিনয় ‘তুতেনখামেনের মমি’-তে।কয়লাখনির শ্রমিকের ভূমিকায়। উত্তর টাকাগছ (কোচবিহার)-এর বাসিন্দা আয়েসা সুলতানা। বিয়ের পর অসুবিধা হয়নি? ‘স্বামী (মোবারক হোসেন) এবং শ্বশুরবাড়ির সবাই একটা ধর্মেই বিশ্বাসী। মানবধর্ম।

প্রচুর উৎসাহ পেয়েছি তাঁদের কাছ থেকে।’ চৌত্রিশ বছরের অভিনয় জীবনে অনেক বার পুরস্কার পেয়েছেন। তবে দর্শকের ভালবাসাই সেরা প্রাপ্তি। বাউল চরিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন। মায়ের নাট্যচর্চার উত্তরসূরি কন্যা। মেহেক সুলতানা আঁখি। অভিনয়ের হাতেখড়ি পঞ্চম শ্রেণিতে। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বাবা এবং মা। ‘অচ্ছুত’ নাটকে অভিনয় করেছেন মায়ের সঙ্গে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘মহুয়া উপাখ্যান’-এর পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। একাদশ শ্রেণির সময়ে তিনিই ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে। ২০১১-তে অভিনয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। ‘দুধমা’-তে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে।এগারো বছরের মঞ্চজীবনে সেটাই সেরা প্রাপ্তি। কয়েক জন নাট্যকর্মীর সঙ্গে মা এবং মেয়ে মিলে গড়ে তুলেছেন ‘ব্রাত্যসেনা’ নাট্যদলটি। তৃতীয় বর্ষের মেহেক পৌরাণিক চরিত্র এবং পতিতার ভূমিকায় অভিনয় করতে চান। কিন্তু কেন? ‘পৌরাণিক চরিত্র বেশ কঠিন। আর পতিতাদের কষ্ট নিজে অনুভব করতে চাই। পৌঁছে দিতে চাই মানুষের কাছেও।’

সুদীপ দত্ত।

কাঁটাতার ডিঙিয়ে

সীমান্তের কাঁটাতার ডিঙিয়ে দুই বাংলা মিলিত হল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সাহিত্যপত্র ‘চিহ্ন’-র (সম্পাদক শহিদ ইকবাল) উদ্যোগে সাহিত্য উৎসব ‘চিহ্নমেলা’য় অংশ নিলেন উত্তরবঙ্গের কবি সম্পাদকেরা। লিটল ম্যাগাজিন মানুষের চেতনার আওয়াজ বহন করে। একটা সময় সীমান্তের কাঁটাতার দুই বাংলার সাহিত্যকর্মীদের মধ্যে যে বিভেদরেখা তৈরি করেছিল, সেটা ক্রমশ দূর হচ্ছে। এটা সাহিত্যকর্মীদের কাছে আশার আলো। লিটল ম্যাগাজিন বিষয়ক আলোচনায় এমনটাই জানালেন জলপাগুড়ি থেকে আমন্ত্রিত কবি গৌতম গুহরায়। তাঁর মতে, লিটল ম্যাগাজিন স্বতন্ত্র পরিচয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে।

কোচবিহারের বাসিন্দা কবি সুবীর সরকার ‘বহুমুখী আড্ডা’-য় বললেন, বিশ্বায়ন, ইন্টারনেটের যুগে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বইপত্র পড়ে সাহিত্য আড্ডায় মজতে পারি। তা সে মাসদুল হকের ‘তামাকবাড়ি’-ই হোক বা দেবেশ রায়ের ‘তিস্তাপুরাণ’। সাহিত্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সাহিত্যকর্মী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মত বিনিময় হয়। আড্ডার ভূগোল হয় না। মাথাভাঙ্গা থেকে প্রকাশিত ‘তিতির’-এর সম্পাদক সঞ্জয় সাহা আলোচনা সূত্রে জানান, লিটল ম্যাগাজিনই সাহিত্যের মূল ধারা। তাঁর মতে, ইলেকট্রনিক মিডিয়া যত বাড়বে, পাঠক ততই লিটল ম্যাগাজিনমুখী হবেন। প্রতিষ্ঠানবিরোধী বলে কিছু হয় না, কারণ ‘প্রতিষ্ঠান’ শব্দটিই তো আপেক্ষিক। প্রযুক্তির উন্নতি ঘটলেও পত্রিকার আঁতুড়ঘর হল সম্পাদকের মস্তিষ্ক। আরও জানালেন, লিটল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে বিপণনও খুবই জরুরি, কারণ তা না হলেন পত্রিকার পরের সংখ্যাটি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। উৎসব-মঞ্চে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আলিপুরদুয়ার থেকে আমন্ত্রিত তরুণ কবি অরুণাভ রাহা রায়। আয়োজক পত্রিকার পক্ষ থেকে ‘চিহ্ন সম্মাননা’ লাভ করে শিলিগুড়ি থেকে প্রকাশিত ‘মল্লার’ (সম্পাদক শুভময় সরকার) এবং মাথাভাঙ্গার ‘তিতির’ পত্রিকা। সংবর্ধনাপত্র তুলে দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানউদ্দিন। স্বরচিত কবিতা শোনান গৌতম, সুধীর ও সঞ্জয়।

লেখা ও ছবি : অনিতা দত্ত।

বকলম পত্রিকা

কোচবিহার-দিনহাটা থেকে প্রকাশিত ‘বকলম’(সম্পাদনা সঞ্জয়কুমার নাগ) পত্রিকার এই সংখ্যায় রয়েছে প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ছোটগল্প এবং ছড়া ও কবিতা। আনন্দগোপাল ঘোষের প্রবন্ধের বিষয় কোচবিহার রাজ-পরিবারে সুনীতিদেবীর প্রভাব।

এ ছাড়া শরৎচন্দ্রের সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন অর্ণব সেন। নির্মল চক্রবর্তী, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, সঞ্জয়কুমার নাগ প্রমুখের ছোটগল্প নানা রঙের অনুভূতি তৈরি করে। কবিতায় বিপ্লবকুমার বিশ্বাস, আরণ্যক বসু এবং অন্যরা ভাল লাগার অসংখ্য মুহূর্ত তৈরি করেছেন। প্রাপ্তি-তালিকায় থাকতে পারে হিতেন নাগের রম্যরচনাও।

ছবিঘর

বৈশাখের সন্ধ্যায় স্বস্তির ছবি। সন্দীপ পাল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement