তৃণমূল নেতা মহম্মদ আইনুল হকের রহস্যমৃত্যু। —নিজস্ব চিত্র।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ, প্রবীণ তৃণমূল নেতা মহম্মদ আইনুল হকের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোরগোল শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায়। শনিবার সকালে বাসভবন থেকে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পরিবার।
শনিবার সকালে বাড়ির লোকজন আইনুলের ঝুলন্ত দেহ দেখামাত্র তাঁকে উদ্ধার করে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে তারা।
ফাঁসিদেওয়ার রাজনীতিতে আইনুল পরিচিত নাম। দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। কংগ্রেসে থাকাকালীন একাধিক বার গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল মহকুমা পরিষদ দখল করলে আইনুল হন কৃষি কর্মাধ্যক্ষ। তা ছাড়াও সহকারি সভাধিপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
তৃণমূল নেতার পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরে তিনি নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২২ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি নেতা অপু রায় খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল আইনুলের। সেই মামলার শুনানি চলছিল হাই কোর্টে। আইনুলের দীর্ঘ দিনের সহযোগী তথা ফাঁসিদেওয়ার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ বসির বলেন, ‘‘আমরা একসঙ্গে কংগ্রেস করতাম। পরে তৃণমূলে যোগ দিই। এলাকায় উনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইদানীং মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণে আমারা মর্মাহত।’’
খুন কিংবা আত্মহত্যা— এই দুই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নকশালবাড়ির এসিডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, ‘‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি।’’