অঙ্কন: রৌদ্র মিত্র
দুর্গাপুজোর টেস্ট ম্যাচে মোটামুটিভাবে পাশ করেছিল পুলিশ। কিন্তু কালীপুজোর ওয়ানডে-তে কী হবে? কেউ কেউ তো বলছেন, এটা আসলে টি-টোয়েন্টি! যা খেলা, সব আজ, শনিবার বিকেল থেকে মধ্য রাত অবধি। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তার পরে প্রশাসনের তৎপরতায় অনেকটাই বন্ধ হয়েছে বাজি বিক্রি। বসেনি প্রতি বছরের মতো বাজি বাজার। এখনও পর্যন্ত আকাশ-বাতাস কাঁপানো আওয়াজ ও আলোর রোশনাই-ও মেলেনি। কিন্তু তাতে কী! চোরা পথে তো বাজি শিলিগুড়িতে ঢুকেছেই। গত সাত দিনে পুলিশের ধরপাকড় থেকে তা পরিষ্কার। তাই শুক্রবার ভূত চতুদর্শীর সন্ধ্যা থেকেই পুলিশকে কোমর বেঁধে নেমে পড়তে হয়েছে শনিবারের ম্যাচ জিততে।
অভিযোগ জানান
০৩৫৩-২৬৬২১০১, ২৬৬২২১০ নম্বরে
শব্দ বা আতশবাজির ঠেলায় শিলিগুড়ি শহরের দূষণের মিটার কোথায় পৌঁছয়, গতবারের দেওয়ালির রাতের সেই হিসেব চমকে দিয়েছিল গোটা রাজ্যবাসীকে। দূষণে দেশের প্রথম ৫টি শহরের মধ্যে নাম এসেছিল শিলিগুড়ির। সেখানে করোনা কালে বাতাসকে পরিষ্কার রাখতে সরকারি নির্দেশকে পুরোপুরি কার্যকর করতে মরিয়া এ বার পুলিশও। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, কারণ, পুলিশের ঘরে ঘরেও তো করোনা রোগী। খোদ পুলিশ কমিশনার থেকে আইজি, ডিআইজি— কেউ বাদ যাননি। ওসি থেকে আইসিরা সকলকেই যেতে হয়েছে পজ়িটিভ-নেগেটিভ রেজাল্টের মধ্যে দিয়ে। পরিবারের উদ্বেগ, স্বজন বা সহকর্মীকে হারানোর ক্ষেত্রে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে পুলিশ প্রথম সারিতে। তাই কালীপুজোর রাতের ওয়ানডে ম্যাচ অনেকটাই ‘ডু অর ডাই’ খেলা বলে ধরে নিচ্ছেন অফিসারেরা।
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ব বলেছেন, ‘‘শিলিগুড়ি কমিশনারেটের পুরো টিম বাজি নিয়ে সক্রিয়। সরকারি নির্দেশিকা ধরে বাজি বন্ধ করতে বদ্ধ পরিকর। সেই মতো সব থানায় নির্দেশ গিয়েছে। গ্রেফতার হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা।’’
পুলিশি নির্দেশ, ধরপাকড়ের মধ্যে কিন্তু ফাঁকফোকর রয়েছে। যেমন, শুক্রবার রাতের দিকে নয়াবাজার, খালপাড়া, সেবক রোড, দুই মাইল, বর্ধমান রোড. মিলনপল্লি, হাকিমপাড়া, হিলকার্ট রোড, মেডিক্যাল কলেজ মোড়, পঞ্জাবিপাড়া, আশ্রমপাড়া, প্রধাননগরের মতো বেশ এলাকায় বহুতল, আবাসন, বাড়ির সামনে, ভিতরে আতশবাজি পুড়তে দেখা গিয়েছে। অনেকে বহুতলের ছাদে উঠে পুড়িয়েছেন বাজি।
গত কয়েক বছরের তুলনায় খুব কম হলেও শুক্রবার রাতে শব্দবাজির কিছু আওয়াজ শহরের বাসিন্দারা পেয়েছেন। আরও আশঙ্কা জাগিয়েছে, বিজেপির বিহার জয়ের পরে মুহুর্মুহু বাজি-পটকার আওয়াজ। তাই পাড়ায় পাড়ায় টহলদারি ভ্যান তো থাকছেই। তা ছাড়াও পুলিশ অফিসারেরা বাইকে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছেন। বিশেষ করে বহুতল আবাসনে বেশি নজর রাখার নির্দেশ রয়েছে। পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি বা চোরাপথে আসা বাজি ফাটানো কতটা বন্ধ করা যাচ্ছে, সেটাই অফিসারদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই ক্রেতার সঙ্গে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বাজির মূল ঘাঁটিগুলিতে এবং বিক্রেতাদের উপর। এদিনই বিধানমার্কেটে ধরপাকড় হয়েছে। বিধান রোড, সেবক রোড, রেলগেট লাগোয়া আরও কিছু গুদামে বাজি আছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুদাম থেকে তা যাতে না বার হয়, তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। কমিশনারেটের একাংশ অফিসার জানাচ্ছেন, একদল ব্যবসায়ী আর কিছু বাসিন্দা, নিজেদের পরিবার, শহরবাসী, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের কথা ভাবছেন না। এবার যে শরীরের কথা মাথা রাখতে হবে, সেই ভাবনাটাই আসছে না। তাই লুকিয়েচুরিয়ে বাজি ফাটানো আর বিক্রি খুব কম হলেও চলছে। সেটাকে রুখলে তবেই ম্যাচ আসবে হাতের মুঠোয়।