টোকাটুকিতে বাধা দেওয়ায় বছর দু’য়েক আগে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের ডক্টর মেঘনাদ সাহা কলেজের ভিতরে অধ্যক্ষা সহ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এবারে সেই একই কারণে হামলার রেশ এসে পড়ল বুনিয়াদপুর কলেজের অধ্যক্ষ জিতেশচন্দ্র চাকির বাড়িতে। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বুনিয়াদপুর ও কালিয়াগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) দখলে রয়েছে। স্বভাবতই এদিন অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলার ঘটনার পিছনে টিএমসিপির মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই। ওই ঘটনার পর অধ্যক্ষের বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজা বলেন, ‘‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিতেশবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে থানায় অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’’
গত ৬ জুন থেকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট ওয়ান ও পার্ট টুর পাস কোর্সের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত! কালিয়াগঞ্জ কলেজের দুটি বর্ষের ৪৬০০ জন পড়ুয়ার পরীক্ষার আসন পড়েছে বুনিয়াদপুর কলেজে। কলেজ সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে কড়া নজরদারি ও গণটোকাটুকিতে বাধা দেওয়ায় কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়া তথা পরীক্ষার্থীদের একাংশের সঙ্গে বুনিয়াদপুর কলেজের শিক্ষকদের একাংশের সঙ্গে গোলমাল ও বচসা লেগে ছিল। এমনকী, পরীক্ষার্থীদের একাংশ গত কয়েকদিন ধরে নকলের চিরকুট কলেজ চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় ওই কলেজের টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের সদস্য ও টিএমসিপি সমর্থকের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়াদের একাংশ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এদিন কড়া হাতে টোকাটুকির মোকাবিলা করায় কালিয়াগঞ্জেরই বাসিন্দা জিতেশবাবুর বাড়িতে হামলা হল বলে মনে করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।
অধ্যক্ষ জিতেশবাবু বলেন, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়ারা গণটোকাটুকির চেষ্টা করছিল। আমরা কড়া হাতে টোকাটুকি মোকাবিলা করি। কয়েকজনের পরীক্ষা বাতিলও করা হয়। সেই ক্ষোভেই পরীক্ষার্থীদের একাংশ এদিন কালিয়াগঞ্জে ফিরে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। স্ত্রী আতঙ্কে কিছু বলতে পারছেন না।’’ তাঁর দাবি, হামলাকারী কারা ও তারা কোন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘‘গণটোকাটুকি নিয়ে কলেজে উত্তেজনা ও আমার কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়াদের গোলমাল চলতে থাকায় এদিন আমার কলেজে বিরাট পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করেছিলাম। হামলাকারীরা তাই কলেজে হামলা চালাতে না পেরে আমার বাড়িতে হামলা চালায়।’’ জিতেশবাবুর স্ত্রী চন্দনাদেবীর অভিযোগ, ‘টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে আমাদের বাড়িতে পরীক্ষার্থীদের একাংশ চড়াও হয়।’’
ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষের দাবি, ‘‘টিএমসিপির পরিচিত সংস্কৃতি অনুযায়ী তারা টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এটা কারোর বুঝতে বাকি নেই। আশা করব, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করবে।’’ এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক প্রাণেশ সরকারের দাবি, টোকাটুকি নিয়ে কালিয়াগঞ্জ ও বুনিয়াদপুর কলেজের টিএমসিপি সমর্থকদের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, ‘‘টোকাটুকি করতে বাধা পাওয়ায় টিএমসিপি সমর্থকেরা অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এখন মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে পুলিশের তদন্তকে প্রভাবিত করার আগে পুলিশের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা।’’
কালিয়াগঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক টিএমসিপির কপিল দেও সিংহকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে টিএমসিপির জেলা সভাপতি অজয় সরকারের পাল্টা অভিযোগ, বুনিয়াদপুর কলেজের ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই সমর্থকেরা কয়েকদিন ধরে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পরীক্ষার্থী পড়ুয়াদের নানা ভাবে উত্যক্ত করছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষ সব জেনেও নিশ্চুপ ছিলেন। তাঁর দাবি, ‘‘টিএমসিপির কোনও সমর্থক অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়নি। সাধারণ পরীক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।’’