এ বার নির্বাচনী প্রচারের খরচের হিসেব নিয়ে তৃণমূল-কমিশন বিরোধ তুঙ্গে। কোচবিহার লোকসভা আসনে ভোট প্রচারের খরচের হিসেবে তৃণমূল ও কমিশনের মধ্যে ১৪ লক্ষ টাকার তফাত আছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সরকারি সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ভোট প্রচারে তৃণমূল ১৬ লক্ষ ২৭৫০০ টাকার হিসেব দাখিল করে। কমিশনের হিসেব অনুযায়ী ওই দিন পর্যন্ত তৃণমূলের খরচ হয়েছে ২৮ লক্ষ ৮৭৫১ টাকা। হিসাব হেরফেরের দায় কমিশনের উপর চাপিয়েছে তৃণমূল।
তাঁদের অভিযোগ, “বাজার দরের থেকে ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন, পতাকার দাম বেশি ধরাতেই ওই গণ্ডগোল হয়েছে। কমিশন আদতে বাজারে খাঁজ না নিয়েই ওইসব জিনিসের দাম নির্ধারণ করে বলে তৃণমূলের দাবি।” কংগ্রেস-বামেদের সঙ্গে হিসেবে কমিশনের হেরফের হয়নি। বিজেপি যে হিসেব দাখিল করেছে কমিশনের হিসেব অনুযায়ী তাঁর থেকে কম খরচ করেছে বিজেপি। কোচবিহারের জেলাশাসক মোহন গাঁধী বলেন, “সর্বদল বৈঠকে সঙ্গে আলোচনা করে ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন, পতাকার দাম ধার্য করা হয়েছে। ওই সময় কেউ বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানায়নি। বিষয়টি হিসেব সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকের নজরে আনা হয়েছে।”
তার পরেও তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনে খরচের হিসেবে কমিশন ১২ টাকা স্কোয়ার ফুট ফ্লেক্সের দাম ধরা হয়েছে। বাজারে যার মূল্য ৬-৭ টাকা স্কোয়ার ফুট। বাজার দরেই তৃণমূল ৮ লক্ষ টাকার ফ্লেক্স ছাপিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসেবে ওই ফ্লেক্সের দাম ১৩ লক্ষ টাকা। প্রায় ২ লক্ষ পোস্টার ছাপিয়েছে তৃণমূল। বাজার দর হিসাবে প্রতি পোস্টারের দাম পড়েছে ১ টাকা ৩২ পয়সা। কমিশন প্রতি পোস্টারের দাম ধরেছে ১ টাকা ৭৫। পতাকার ক্ষেত্রে কমিশন প্রতিটি হিসেবে দাম ধরেছে ৮ টাকা। কিন্তু বাজারে একটি পতাকা ৫ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।
তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “কমিশন ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন, পতাকার ক্ষেত্রে বেশি দর ধরেছে। বাজারের বর্তমান মূল্যের সঙ্গে তার মিল নেই। আমরা যে দামে বাজার থেকে সে সব জিনিস কিনছি পুরো তথ্য সহকারে তা কমিশনের কাছে দাখিল করেছি।” কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার কোচবিহার জেলাশাসকের দফতরের হিসেব সংক্রান্ত তথ্য জমা দেন বিভিন্ন দলের সদস্যরা। ৮ এপ্রিল পর্যন্ত হিসেবে বামেদের তরফে ৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৪০ টাকার হিসেব দাখিল করা হয়। নির্বাচন কমিশনের হিসেবের সঙ্গে তাঁদের হিসেব মিলে যায়। কংগ্রেসের সঙ্গেও কমিশনের হিসেব মিলে গিয়েছে। কংগ্রেস ৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৭৭ টাকার হিসেব জমা দেয়। বিজেপির তরফে ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৮৩ টাকার হিসেব জমা দেওয়া হয়। কমিশনের হিসেবে বিজেপির খরচ হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮১৭৩ টাকা।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক নিখিল রঞ্জন দে বলেন, “প্রচারে অনেক রকমের খরচ হয়, যার সবটা কমিশনের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। তাই আমাদের হিসেবের তুলনায় তাঁদের হিসেব কম হয়েছে। আমরা কমিশনের দর হিসেবেই খরচের হিসেব জমা দিয়েছি।” ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা তথা বাম প্রার্থী দীপক রায়ের এজেন্ট শঙ্কর দত্ত বলেন, “সর্বদল বৈঠকে বিভিন্ন জিনিসের দরের খসড়া তুলে দিয়েছিল কমিশন। তখন কেউ আপত্তি করেনি।”