গরুর পেট পরীক্ষা। নিজস্ব চিত্র।
যত কাণ্ড গরু-ঘিরে!
রাতভর তাকে নিয়ে হুলুস্থূল। এসএসবি থেকে পুলিশ এমনকী ভোর রাতে এসে হাজির সেনা গোয়েন্দারাও। বোমার খোঁজে দফায় দফায় চলেছে তার দেহ তল্লাশি।
তবে তার কোনও বিকার নেই। দিব্বি শিং দুলিয়ে, লেজের ঝাপটায় মাছি তাড়িয়ে বার দুয়েক হাম্বা ডেকে খিদে-তেষ্ঠার জানানও দিচ্ছে সে। রবে ডাকছেও। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল—এক গরুতেই কাত দুঁদে গোয়েন্দারা।
শুক্রবার রাতে নেপাল সীমান্ত থেকে এক ট্রাক গরু আটক করে এসএসবি। নেপাল থেকে তাদের বাংলাদেশে পাচার করার ছক ছিল বলেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি। পাচারকারী সন্দেহেও দু’জনকে আটক করে এসএসবি। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে একটি গরুর পেটের সেলাইয়ের দাগ দেখে। নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ জাগে, গরুর পেটে কিছু ভরে পাচার করার চেষ্টা হচ্ছে নাতো! আর তার জেরেই শুরু হয় তল্লাশি।
আনা হয় মেটাল ডিটেক্টর। গরুর পেটে তা ঠেকাতেই তা সাড়া দিতে শুরু করে। গরুর পেটে বোমা পুরে দেওয়া হয়নি তো? প্রশ্নও উঠে যায়।
রাতেই গরুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় নকশালবাড়ি থানায়। তলব হয় সিআইডি-র বম্ব স্কোয়াডের। তাঁরা জানিয়ে দেন, গরুর পেটের ভিতরে বোমা রয়েছে কি না তা জানার মতো প্রযুক্তি তাঁদের কাছে নেই। এ বার সেই গরুকে ট্রাকে চাপিয়ে পাঠানো হয় সটান উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ লাগোয়া এসএসবির সদর দফতরে। সেখানেও গরুর পেটে মেটাল ডিটেক্টর ধরলেই একই রকম সাড়া মিলতে থাকে। গরুটিকে এ বার পাঠানো হয় সেনা বাহিনীর ব্যাঙডুবির হাসপাতালে।
সেখানে পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন এনে এক্স-রে করা হয় তার। করা হয় স্ক্যানও। তবে তাতে সন্দেহ জনক কিছুই মেলেনি। তাহলে ওই শব্ধ কিসের? এসএসবির এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘শেষ পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি। যতদূর জানা গিয়েছে, গরুটি কোনও দূর্ঘটনায় জখম হয়। সে কারণে পেটে সেলাই পড়ে। কোনও কারণে খাবারের সঙ্গে ধাতব কিছু পেটে ঢুকে থাকতে পারে।’’