ঘরের ছেলে এরশাদের অপেক্ষায় দিনহাটা

পৈতৃক ভিটের টানে চার দিনের সফরে দিনহাটা আসছেন ‘ঘরের ছেলে’ বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদ। কাল মঙ্গলবার ৮ ডিসেম্বর বেলা ১২টা নাগাদ বাংলাদেশের লালমণিরহাট হয়ে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে তিনি এ দেশে আসবেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৪৫
Share:

পৈতৃক ভিটের টানে চার দিনের সফরে দিনহাটা আসছেন ‘ঘরের ছেলে’ বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদ। কাল মঙ্গলবার ৮ ডিসেম্বর বেলা ১২টা নাগাদ বাংলাদেশের লালমণিরহাট হয়ে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে তিনি এ দেশে আসবেন। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে স্বাগত জানানো হবে। দিনহাটায় থাকাকালীন একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শৈশবের স্মৃতি জড়িত কিছু এলাকা ঘুরে দেখার কথা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন দাবি জানানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্তারা। ‘ঘরের ছেলে’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে উঠেছে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়পরিজনদের মধ্যে। খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে সীমান্ত শহর দিনহাটা জুড়ে।

Advertisement

কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথন বলেন, “ব্যাক্তিগত সফরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জেলায় আসছেন। চ্যাংরাবান্ধায় তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। ওই সফর ঘিরে প্রোটোকল মেনে অন্য সমস্ত ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।” রাজ্যের বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “মঙ্গলবারই দিনহাটার পৈতৃক বাড়ি গিয়ে তাঁকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাব। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এই সফরে দুই বাংলা তথা দেশের সৌহার্দ্য বৃদ্ধি হবে।”

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এরশাদের সঙ্গে তাঁর ভাই তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী গোলাম কাদেরও দিনহাটায় আসবেন। এ ছাড়াও থাকবেন আরও তিন জন। ২০০৯ সালে শেষবার দিনহাটার পৈতৃক বাড়িতে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সে বার নিজে যে স্কুলে একসময় পড়াশোনা করেছেন, সেই দিনহাটা হাইস্কুলেও গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৪৬ সালে ওই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন তিনি। সেবার ছোটবেলা বন্ধুদের কয়েকজনের সঙ্গেও দেখা করেন। ঘুরে দেখেন কোচবিহার রাজবাড়ির অন্দরমহল। ২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিন বিঘা করিডর পরিদর্শন সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে দিনহাটায় আসবার ব্যাপারে ইচ্ছের কথাও জানান। কিন্তু নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার পুরো চার দিনের সফরে দিনহাটায় আসবার সূচি চূড়ান্ত হতেই সীমান্ত শহর দিনহাটায় উৎসবের মেজাজে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে তাঁর বাড়িও। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ভাইপো তথা দিনহাটার বাসিন্দা আইনজীবী আহসান হাবিব বলেন, “জ্যাঠার সঙ্গে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হয়। নানা ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পরিচিতদের সম্পর্কে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নেন। দিনকয়েক আগে নিজেই ফোন করে দিনহাটার বাড়িতে আসবার কথা জানানোর পর থেকেই রীতিমতো রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছি। মঙ্গলবার তাঁর পৌঁছনোর অপেক্ষায় আমরা সবাই অপেক্ষা করে রয়েছি। জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কাছেও ৮ ডিসেম্বর তাঁর আসবার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই পূর্ণাজ্ঞ সফরসূচি তৈরি হবে।”

Advertisement

পারিবারিক সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন ওয়েলফেয়ার ফোরাম, দিনহাটা জনজাগরণ মঞ্চ, হিতসাধনী মঞ্চ, ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির দেখা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিনহাটা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির কর্তা সুরেন্দ্র রাঠি বলেন, “ঘরের ছেলের সফরে আমরা দারুণ খুশি। গীতালদহ দিয়ে ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ চালুর ব্যাপারে আর্জি জানাতে চাইছি।” দিনহাটা জনজাগরণ মঞ্চের কর্তা হিটলার দাস বলেন, “দিনহাটার ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর ব্যাপারে উদ্যোগী হতে আমরা তাঁকে আর্জি জানাব।” ন্যাশনাল সিটিজেন ওয়েলফেয়ার ফোরামও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য স্মারকলিপি দিতে চাইছেন। সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধিদলও তাঁর সঙ্গে দিনহাটায় দেখা করবেন। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ধৃত ছিটমহলের ৫ বাসিন্দার মুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের সংসদে ২০০৯ সালে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। ওই ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁদের পরিজনেরাও দেখা করতে যাবেন। দিনহাটার পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বর্তমানে তাঁর দুই ভাই মোসাব্বর হোসেন ও মোজ্জামেল হোসেন রয়েছেন। তাঁরাও ওই সফরের কাউন্টডাউন শুরু করেছেন।

চিকিৎসায় গাফিলতির নালিশ। বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মৃত রাব্বু শেখ (৫৫) ইংরেজবাজারের বাসিন্দা। রবিবার দুপুরে হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের মেডিক্যাল ওয়ার্ডের নার্স ও চিকিৎসকদের কেবিনে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতের পরিজনেরা। পুলিশ গেলে তাঁদের সামনেই কর্তব্যরত নার্সদের ঘিরে চলে বিক্ষোভ। পরে বাড়তি পুলিশ গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মৃত রোগীর আত্মীয়েরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গাফিলতির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল। পুলিশ গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। পেশায় গ্যারেজ কর্মী রাব্বু শেখ শনিবার রাতে বুকে যন্ত্রণা নিয়ে জরুরী বিভাগে ভর্তি হলেও চিকিৎসক আসেননি বলে অভিযোগ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement